বাংলাদেশের রপ্তানি মার্কিন তদন্তের আওতায়: রিপোর্ট

নয়াদিল্লি, ১৩ মার্চ : বাংলাদেশের রপ্তানি নীতি ও উৎপাদন পদ্ধতি বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত উৎপাদন তৈরি করে মার্কিন উৎপাদন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নতুন বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর)। ঢাকার দৈনিক-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন-এর ৩০১ ধারার অধীনে এই তদন্ত শুরু করেছে। এই ধারা এমন একটি শক্তিশালী বাণিজ্য আইন, যার মাধ্যমে ওয়াশিংটন বিদেশি দেশের তথাকথিত অন্যায্য বাণিজ্য নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে থাকে।

ইউএসটিআরের দাবি, বাংলাদেশে কাঠামোগত অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত প্রায় ৬.১৫ বিলিয়ন ডলার।

এই উদ্বৃত্তের বড় অংশই আসছে টেক্সটাইল খাত থেকে। সরকার টেক্সটাইল ও চামড়া-সহ মোট ৪৩টি খাতে রপ্তানির জন্য নগদ প্রণোদনা দেয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পেও উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএসটিআর। গত কয়েক বছরে এই শিল্প মারাত্মক মন্দার মুখে পড়েছে।

২০২৪ সালে দেশে সিমেন্টের ব্যবহার ছিল প্রায় ৩৮ মিলিয়ন টন, যা মোট উৎপাদন ক্ষমতার ৪০ শতাংশেরও কম। পরের বছর তা আরও কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাহমুদ হাসান খান, সভাপতি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি, বলেন, “তদন্তের তালিকায় দেশের নাম ওঠা মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়।”

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আসবে—যেমন উৎপাদন ক্ষমতা, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও সরকারি প্রণোদনা—সেগুলোর প্রভাব বাংলাদেশের উপর খুব বেশি পড়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ দেশের পোশাক শিল্প মূলত আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অর্ডারের উপর নির্ভর করে, ফলে অতিরিক্ত উৎপাদনের সুযোগ কম।

এছাড়া গত বছর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-এর সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করেছে এবং আইএলও-র তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশন অনুমোদন করেছে।

সরকার ইতিমধ্যেই রপ্তানি আয় সংক্রান্ত প্রণোদনা ধাপে ধাপে কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাতে চলতি বছরের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি মসৃণভাবে সম্পন্ন করা যায়।

Leave a Reply