নয়াদিল্লি, ১১ মার্চ: কেন্দ্রের পিএম-কুসুম পরিকল্পনা-এর আওতায় দেশজুড়ে ১০ লক্ষেরও বেশি স্ট্যান্ডঅ্যালোন সৌরচালিত কৃষি পাম্প বসানো হয়েছে এবং ১৩ লক্ষেরও বেশি গ্রিড-সংযুক্ত কৃষি পাম্প সৌরীকরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী।
নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তি ক্রমশ ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে এবং কৃষকদের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, এখন নবায়নযোগ্য শক্তি ক্রমশ দেশের খামার ও গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পাচ্ছেন, সেচের খরচ কমছে এবং কৃষি উৎপাদনশীলতাও বাড়ছে।
তার কথায়, “আজ একজন কৃষক তার জমিতে সেচ দিচ্ছেন সৌর শক্তির মাধ্যমে। যে পরিবার একসময় বিদ্যুতের বিল নিয়ে চিন্তিত থাকত, তারাই এখন ছাদের সৌর প্যানেলের মাধ্যমে নিজেরাই বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এটি শুধু জ্বালানি রূপান্তর নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিরও বড় পরিবর্তন।”
মন্ত্রী জানান, সৌরচালিত সেচ পাম্প কৃষিতে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর ফলে কৃষকদের ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমছে এবং দিনে নিরবচ্ছিন্ন সেচের সুবিধা মিলছে।
তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলচালিত সেচে গমের ক্ষেত্রে প্রতি একরে প্রায় ৬,৭৯০ টাকা এবং তুলার মতো ফসলে ৮,০০০ টাকারও বেশি খরচ হতে পারে। সেখানে সৌর পাম্প ব্যবহারে বছরে প্রতি একরে প্রায় ৫,০০০ থেকে ৬,৫০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় সম্ভব, পাশাপাশি দূষণও কমে।
তিনি জানান, কেন্দ্র সরকার পিএম-কুসুম 2.0 চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে ১০ গিগাওয়াটের একটি বিশেষ কৃষি-পিভি উপাদান থাকবে, যার মাধ্যমে একই জমিতে ফসল চাষের পাশাপাশি সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।
মন্ত্রী বলেন, সৌর শক্তি উৎপাদন ও কৃষিকাজ একসঙ্গে করলে জমির উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের পথ খুলবে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভারতে অ্যাগ্রিভোল্টাইক বা কৃষি-সৌর ব্যবস্থার সম্ভাবনা প্রায় ৩,০০০ গিগাওয়াট থেকে প্রায় ১৪,০০০ গিগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে।
এছাড়া পিএম সূর্য ঘর: মুফত বিজলী যোজনা-এর অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৩১ লক্ষের বেশি পরিবার ছাদের সৌর প্যানেল বসিয়ে নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে এবং বিদ্যুৎ বিল কমাতে পারছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে অ-জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০১৪ সালের প্রায় ৮১ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৭৫ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। বর্তমানে দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ ক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি অ-জীবাশ্ম উৎস থেকে আসছে।
এর মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০১৪ সালের ২.৮ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে প্রায় ১৪৩ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। একই সময়ে বায়ু শক্তি ২১ গিগাওয়াট থেকে প্রায় ৫৫ গিগাওয়াট এবং বায়োপাওয়ার ৮.১ গিগাওয়াট থেকে প্রায় ১২ গিগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

