নয়াদিল্লি, ১০ মার্চ : তফসিলি জাতি (এসসি) ও তফসিলি উপজাতি (এসটি) সংরক্ষণে ‘ক্রিমি লেয়ার’ নীতি প্রয়োগের দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় মঙ্গলবার কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ, যেখানে বিচারপতি আর. মহাদেবন এবং জয়মাল্য বাগচী-ও ছিলেন, এই বিষয়ে কেন্দ্র সরকার, সব রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির কাছে জবাব তলব করেছে। একই ধরনের দাবিতে আগে থেকে থাকা একটি মামলার সঙ্গেও এই আবেদনের শুনানি একসঙ্গে করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
প্রাক্তন আমলা জ্ঞানেন্দ্র কুমার খারে-র দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় কেন্দ্র, সব রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-কে বিবাদী করা হয়েছে।
সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের হওয়া এই আবেদনে বলা হয়েছে, এসসি ও এসটি সংরক্ষণে ক্রিমি লেয়ার বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকা “ইচ্ছামত, অসাংবিধানিক এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী”।
আবেদনকারী দাবি করেছেন, সংবিধানে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল ঐতিহাসিক অবিচার ও সামাজিক বৈষম্য দূর করার জন্য। তবে তা কখনও স্থায়ী বা শর্তহীন অধিকার হিসেবে ভাবা হয়নি।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, ক্রিমি লেয়ার বাদ না দেওয়ায় সংরক্ষিত ও অসংরক্ষিত শ্রেণির মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে এবং সংরক্ষণের সুবিধা মূলত অপেক্ষাকৃত সচ্ছল একটি অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।
আবেদনকারীর বক্তব্য, এর ফলে এসসি ও এসটি সম্প্রদায়ের মধ্যেই এক ধরনের শ্রেণি বিভাজন তৈরি হয়েছে। তুলনামূলকভাবে উন্নত পরিবারগুলি বারবার সংরক্ষণের সুবিধা পাচ্ছে, অথচ সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকছেন।
এই পরিস্থিতিতে সংরক্ষণের প্রকৃত সুবিধা যাতে সমাজের সবচেয়ে বঞ্চিত অংশের কাছে পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যে এসসি ও এসটি সংরক্ষণে ক্রিমি লেয়ার চিহ্নিত ও বাদ দেওয়ার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
আবেদনটিতে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ইন্দ্রা সাহনি বনাম ভারত ইউনিয়ন মামলা, যেখানে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি)-র ক্ষেত্রে প্রথম ‘ক্রিমি লেয়ার’ ধারণা চালু হয়।
এছাড়াও সাম্প্রতিক পাঞ্জাব রাজ্য বনাম দবিন্দর সিং মামলার সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছে যে তফসিলি জাতিগুলি একক বা সমজাতীয় শ্রেণি নয় এবং তাদের মধ্যে উপ-শ্রেণিবিভাগ করা সাংবিধানিকভাবে সম্ভব।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডি. ওয়াই. চন্দ্রচূড়-এর নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক রায়ে এসসি ও এসটি-র সংরক্ষণ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘ক্রিমি লেয়ার’ নীতি প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছিল। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছিল, উপ-শ্রেণিবিভাগের নামে কোনও একটি গোষ্ঠীর জন্য ১০০ শতাংশ সংরক্ষণ রাখা যাবে না।
_____

