পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে দিনমজুরের উপর প্রাণঘাতী হামলা, কৈলাসহর থানায় অভিযোগ

কৈলাসহর, ১০ মার্চ : পাওনা মাত্র ৩০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক দিনমজুরের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠেছে ঊনকোটি জেলার কৈলাসহর মহকুমায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শ্রমিক বর্তমানে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে কৈলাসহর মহকুমার সমরুরপার গ্রাম পঞ্চায়েতের ভটের বাজার এলাকায়। আহত শ্রমিকের নাম প্রদীপ শুক্ল বৈদ্য। তিনি চন্ডিপুর ব্লকের অধীন সমরুরপার গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপল্লী এলাকার বাসিন্দা। দিনমজুরের কাজ করে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কষ্টের সংসার চালান তিনি।

আহত শ্রমিকের স্ত্রী চম্পা শুক্ল বৈদ্য অভিযোগ করে জানান, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন প্রদীপ। ভটের বাজার এলাকায় ভদ্রেশ্বরী কালীবাড়ির কাছে পৌঁছতেই একই এলাকার বাসিন্দা বিদ্যুৎ মালাকার তাঁর পথ আটকায়। জানা যায়, বিদ্যুৎ মালাকার প্রদীপের কাছ থেকে ৩০ টাকা পেত। সেই পাওনা টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

অভিযোগ, ওই সময় প্রদীপ জানান যে তাঁর কাছে এই মুহূর্তে টাকা নেই, তিনি পরদিন টাকা পরিশোধ করবেন। কিন্তু সেই কথা শুনেই অভিযুক্ত বিদ্যুৎ মালাকার পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রদীপের মাথায় আঘাত করে। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে ঘটনাস্থলের কাছেই গ্রামের প্রধানের বাড়িতে আশ্রয় নেন প্রদীপ। তবে অভিযোগ, সেখান থেকে কোনো সাহায্য না পেয়ে তাঁকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছান। চারটি গামছা দিয়ে বেঁধেও রক্তপাত বন্ধ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী।

স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের লোকজন অগ্নি নির্বাপক দপ্তরে খবর দিলে কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রদীপকে উদ্ধার করে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সংকটজনক অবস্থায় সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর মাথায় পাঁচটি সেলাই পড়েছে। তিনি ঠিকভাবে কথা বলতে পারছেন না এবং কিছু খেতেও পারছেন না।

পরিবারের দাবি, চরম আর্থিক দুরবস্থার কারণে তাঁর উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে স্ত্রী ও সন্তানরাও মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

ঘটনার পরদিন আহত শ্রমিকের স্ত্রী কৈলাসহর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ প্রথমে তেমন তৎপরতা না দেখালেও পরে অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে স্থানীয় সূত্রে দাবি, গ্রামের প্রধান অভিযুক্ত বিদ্যুৎ মালাকারকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Reply