নয়াদিল্লি, ১০ মার্চ : লোকসভায় স্পিকারকে অপসারণের প্রস্তাব আনল কংগ্রেস। মঙ্গলবার এই প্রস্তাব ঘিরে লোকসভা-তে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং অধিবেশন পরিচালনার ক্ষমতা নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলে।
কংগ্রেস সাংসদ মোহাম্মদ জাভেদ আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকার ওম বিড়লা-কে অপসারণের প্রস্তাব পেশ করেন। জানা গেছে, এই প্রস্তাবে ১১৮ জন বিরোধী সাংসদ সই করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, স্পিকার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন, বিশেষ করে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-কে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ উঠেছে।
প্রস্তাবটি পেশ হওয়ার পরই অধিবেশন পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আসাদুদ্দিন ওয়াইসি ও সৌগত রায় ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তুলে জানতে চান, যখন স্পিকারকে অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন অধিবেশন পরিচালনা করার অধিকার কার।
ওয়াইসি সংসদীয় নিয়মের উল্লেখ করে বলেন, স্পিকারকে অপসারণের প্রস্তাব বিবেচনার সময় স্পিকার নিজে অধিবেশন পরিচালনা করতে পারেন না। যেহেতু এখনও ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ করা হয়নি, তাই স্পিকারের অনুমোদনেই যে সদস্য চেয়ারে বসেছেন, তাঁর এই বিতর্ক পরিচালনা করা উচিত নয়।
তিনি প্রস্তাব দেন, আলোচনার আগে সংসদে ঐকমত্যে ঠিক করা হোক কে অধিবেশন পরিচালনা করবেন।
এর জবাবে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে বলেন, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারে বসা সদস্য স্পিকারের মতোই অধিকার নিয়ে অধিবেশন পরিচালনা করতে পারেন। এই ব্যাখ্যাকে সমর্থন করেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।
কংগ্রেস নেতা কে. সি. ভেনুগোপাল সরকারের সমালোচনা করে বলেন, এখনও ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ না করায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, আলোচনা শুরু করার আগে অধিবেশন পরিচালনার বিষয়ে ঐকমত্য হওয়া উচিত।
এ সময় বিজেপি সাংসদ রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেন, যিনি চেয়ারে বসে অধিবেশন পরিচালনা করছেন, তাঁর পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে সংসদের কার্যক্রম চালানোর।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর অধিবেশন পরিচালনাকারী জগদম্বিকা পাল জানান, স্পিকারের পদ শূন্য নয়, তাই চেয়ারের পক্ষ থেকে অধিবেশন চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, স্পিকার ওম বিড়লাকে অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে লোকসভায় মোট ১০ ঘণ্টা আলোচনা হবে। পাল জানান, প্রস্তাবের নোটিসে প্রথমে কিছু ভুল ছিল, তবে স্পিকার নিজেই সংশোধনের ব্যবস্থা করেছেন এবং বিতর্ক চলাকালীন তিনি স্বেচ্ছায় অধিবেশন পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এরপর কংগ্রেস সাংসদ মোহাম্মদ জাওয়েদ আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকার অপসারণের প্রস্তাবটি লোকসভায় পেশ করেন।

