‘শার্টলেস’ বিক্ষোভ ইস্যুতে রাহুলকে নিশানা বিজেপির, নেহরুর উদাহরণ টেনে আক্রমণ

নয়াদিল্লি, ১০ মার্চ : ‘শার্টলেস’ বিক্ষোভকে ঘিরে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-কে লক্ষ্য করে নতুন করে আক্রমণ শানাল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। মঙ্গলবার বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এমন বিক্ষোভের প্রশংসা করে কংগ্রেস দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।

বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেন, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট-এ যুব কংগ্রেসের ‘শার্টলেস’ বিক্ষোভ নিয়ে রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছিলেন—“যুব কংগ্রেস ওয়াল নে কাম কর দিয়া”।

ঘটনাটি ২০ ফেব্রুয়ারি দিল্লির ভারত মণ্ডপম-এ অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনের সময় ঘটে। অভিযোগ, ভারতীয় যুব কংগ্রেস-এর কয়েকজন কর্মী নিরাপত্তা ভেঙে ঢুকে পড়েন এবং শার্ট খুলে এমন টি-শার্ট দেখান, যাতে কেন্দ্র সরকার ও ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির সমালোচনামূলক স্লোগান লেখা ছিল।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও সমালোচনা শুরু হয়। এমনকি বিরোধী জোটের কিছু নেতাও আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই ধরনের বিক্ষোভ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে অমিত মালব্য বলেন, যখন বিশ্বের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও উদ্ভাবকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন কংগ্রেস সেই মঞ্চে বিশৃঙ্খলা ও অশালীনতার মাধ্যমে ভারতকে উপস্থাপন করেছে।

রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করতে গিয়ে মালব্য ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু-র একটি ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখও করেন। তিনি বলেন, ১৯৫০-এর দশকে ইন্দোরের হোলকার রাজবংশের উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্কের সময় নেহরু জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন।

তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল-সহ তৎকালীন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর নেহরু মত দেন যে, উত্তরাধিকারী হিসেবে ভারতীয় মায়ের সন্তানকেই স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

শেষ পর্যন্ত মহারাজা যশবন্তরাও হোলকার (দ্বিতীয়)-এর ভারতীয় স্ত্রীর কন্যা উষা দেবী রাজে সাহেব হোলকার-কে হোলকার রাজবংশের উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

মালব্য দাবি করেন, এই উদাহরণ থেকেই বোঝা যায় যে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে জাতীয় পরিচয় ও আনুগত্যের প্রশ্নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হত।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি নেহরু নিজেই জাতীয় পরিচয় নিয়ে এত স্পষ্ট মত পোষণ করে থাকেন, তাহলে আজ কংগ্রেস সেই অবস্থান কেন উপেক্ষা করছে।

ইঙ্গিতপূর্ণভাবে তিনি বলেন, সম্ভবত সেই কারণেই আজ কংগ্রেস আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মর্যাদা রক্ষার বদলে এমন বিক্ষোভকে সমর্থন করছে।

Leave a Reply