নয়াদিল্লি, ৮ মার্চ: পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় ৯ম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনের অনুষ্ঠানস্থল শেষ মুহূর্তে বদল নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ককে ঘিরে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রবিবার বলেন, দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু যে ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন, তা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশের জন্যই “দুঃখজনক”।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে রিজিজু পরোক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক মর্যাদার প্রতীক।
রিজিজু লিখেছেন, “দেশের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জি যে ধরনের কষ্টের কথা প্রকাশ করেছেন, তা শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়, সমগ্র দেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে—এটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক মর্যাদার প্রতীক।”
এর আগে শনিবার ঘটনাটি সামনে আসার পর রিজিজু বলেন, “আমি সবসময়ই আদিবাসী ও ভারতীয় হিসেবে গর্ব অনুভব করেছি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এই লজ্জাজনক কাজ আমার সেই গর্বকে আঘাত করেছে। দেশের রাষ্ট্রপতি এবং সম্মানিত আদিবাসী নারী দ্রৌপদী মুর্মু জিকে অপমান করা আদিবাসী গৌরবের অপমান এবং ভারতের সংবিধানের ওপর আঘাত।”
এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপট হল দার্জিলিং জেলার সাঁওতাল সম্মেলনের অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন। মূলত ফাঁসিদেওয়ায় অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে রাজ্য প্রশাসন অনুমতি না দেওয়ায় আয়োজকদের গোঁসাইপুরের একটি ছোট স্থানে অনুষ্ঠানটি সরিয়ে নিতে হয় বলে অভিযোগ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মুর্মু শেষ মুহূর্তে স্থান পরিবর্তন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এতে অংশগ্রহণকারীদের অসুবিধার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, রাজ্যে সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি।
এই ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন মহল থেকে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে এই সমালোচনাকে খণ্ডন করেছেন।
_____

