নয়াদিল্লি, ৮ মার্চ: আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রবিবার দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নারীদের জন্য সমান সুযোগ ও মর্যাদার সমাজ গড়ার আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। শিক্ষিত ও ক্ষমতায়িত নারীরাই একটি প্রগতিশীল জাতির স্তম্ভ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী শক্তি সাহস ও নেতৃত্বের সঙ্গে সাফল্য অর্জন করে চলেছে, যা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ সমাজের ভিত্তিকে শক্তিশালী করছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই উপলক্ষে আসুন আমরা সবাই মিলে এমন একটি সমাজ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করি, যেখানে প্রত্যেক নারী সমান সুযোগ পাবে এবং মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে। নারীদের আকাঙ্ক্ষা ও সাফল্য যেন আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়তে পথ দেখায়।”
বিশ্বজুড়ে রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হচ্ছে। এই দিনটি নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি লিঙ্গসমতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য উদযাপিত হয়।
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের থিম হলো ‘অধিকার। ন্যায়বিচার। পদক্ষেপ। সকল নারী ও মেয়েদের জন্য।’—যার মূল লক্ষ্য নারীদের আইনি অধিকার ও সুরক্ষা শুধু আইনে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনে কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সূচনা বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে। সে সময় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার নারীরা উন্নত কর্মপরিবেশ, সমান মজুরি এবং ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।
১৯০৮ সালে প্রায় ১৫ হাজার নারী নিউইয়র্কে মিছিল করে কম কর্মঘণ্টা, ন্যায্য মজুরি এবং ভোটাধিকার দাবি জানান। পরে সমাজকর্মী ক্লারা জেটকিন কোপেনহেগেনে এক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের প্রস্তাব দেন, যা ধীরে ধীরে বহু দেশে সমর্থন পায়।
পরবর্তীতে জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে স্বীকৃতি দেয় এবং ৮ মার্চকে বিশ্বজুড়ে নারীর অধিকার ও সমতার দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

