পঞ্জাবে মহিলাদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তা ঘোষণা, সাধারণ শ্রেণির জন্য ১,০০০ ও তফসিলি জাতির জন্য ১,৫০০ টাকা

চণ্ডীগড়, ৮ মার্চ (আইএএনএস): নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পঞ্জাবের আম আদমি পার্টি (আপ) সরকার রবিবার মহিলাদের জন্য বড় আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ঘোষণা করল। ‘মুখ্যমন্ত্রী মাওয়ান ধিয়ান সতিকার যোজনা’-র অধীনে সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের মাসিক ১,০০০ টাকা এবং তফসিলি জাতির (এসসি) মহিলাদের মাসিক ১,৫০০ টাকা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পে রাজ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে জানানো হয়েছে।

২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৯,৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিনে রাজ্য বিধানসভায় পঞ্চম বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী হারপাল চীমা মোট ২,৬০,৪৩৭ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন। তিনি জানান, কার্যকর রাজস্ব ঘাটতি জিএসডিপির ২.০৬ শতাংশ এবং আর্থিক ঘাটতি ৪.০৮ শতাংশ ধরা হয়েছে।

চীমা বলেন, “দায়িত্বশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনকল্যাণকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই বাজেট।”

নারী দিবস উপলক্ষে বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের মা হারপাল কৌর মান, তাঁর স্ত্রী গুরপ্রীত কৌর মান, অর্থমন্ত্রীর স্ত্রী মনজিৎ কৌর এবং রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রাজ লল্লি গিল-সহ অনেকে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি—বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি বলেন, “আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতির পরিপূর্ণতা আনছি। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এই বিশেষ দিনে দেশের ইতিহাসে নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষমতায়ন প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মানের বিশ্বাস, নারীদের উন্নতি ছাড়া কোনও দেশের উন্নতি সম্ভব নয়।”

এই প্রকল্পে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে প্রায় সব মহিলাই অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। তবে বর্তমান বা প্রাক্তন স্থায়ী সরকারি কর্মচারী, বর্তমান বা প্রাক্তন সাংসদ ও বিধায়ক এবং আয়করদাতারা এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবেন।

চীমা জানান, প্রবীণ ভাতা, বিধবা ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতার মতো সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পে থাকা মহিলারাও এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

তিনি দাবি করেন, “এটি শুধু ভারতের নয়, বিশ্বের প্রথম সার্বজনীন নগদ সহায়তা প্রকল্প, যেখানে প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন।”

সরকারের মতে, এই উদ্যোগ নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বাড়াবে, পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা শক্তিশালী করবে এবং স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এছাড়াও রাজ্যে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রা চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে। গত এক বছরে এই সুবিধায় প্রায় ১২ কোটি বিনামূল্যে যাত্রা করেছেন মহিলারা।

Leave a Reply