চেন্নাই, ৮ মার্চ: আসন্ন তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে ১,২৪৯ জন কর্মী পুনর্নিয়োগ করল তামিলনাড়ু নির্বাচন দফতর। নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ও লজিস্টিক চাপ বাড়বে বলে অনুমান করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
নির্বাচন দফতরের সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ত্রুটিমুক্ত করতে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক একাধিক কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটকেন্দ্রের পরিকাঠামো পর্যালোচনা, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রস্তুত রাখা এবং রাজ্যজুড়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা।
কর্মকর্তাদের মতে, নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করলে নির্বাচন দফতরের কাজের চাপ আরও বাড়বে। সেই কারণে রাজ্য সরকার অস্থায়ীভাবে ১,২৪৯টি অতিরিক্ত পদ তৈরি করে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীদের নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের ব্যবস্থা করা, ইভিএম সংরক্ষণ ও বিতরণ সমন্বয় করা, ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা এবং জেলা নির্বাচন দফতর ও রাজ্য সদর দফতরের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করার মতো নানা কাজে সহায়তা করবেন।
এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি বা মডেল কোড অব কন্ডাক্ট কার্যকর হলে তার বাস্তবায়নেও তারা নজরদারি করবেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ, পোস্টার বা ব্যানারের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি বিকৃত করা রোধ করা এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা যাতে নির্বাচন সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলে তা নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত।
ভোটার সচেতনতা বাড়ানোও এই অতিরিক্ত কর্মীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে। নির্বাচন দফতর নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম যাচাই করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে প্রচার বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, নিয়োগের দিন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এই অস্থায়ী পদগুলি কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ এবং ভোট-পরবর্তী প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করা হবে।
চেন্নাই, মাদুরাই, কোয়েম্বাটুর, সেলম, তিরুনেলভেলি, তিরুপ্পুর, কাঞ্চিপুরম এবং ভিল্লুপুরমসহ বিভিন্ন জেলায় এই কর্মীদের মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, অতিরিক্ত জনবল রাজ্যের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিধানসভা নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করবে।

