গুণা লোকসভা এলাকার শহরগুলিকে প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি সিন্ধিয়ার

নয়াদিল্লি/গ্বালিয়র, ৭ মার্চ (আইএএনএস): মধ্যপ্রদেশের গুণা লোকসভা কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিকে প্রস্তাবিত ‘মধ্য ভারত বিকাশ পথ’ এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকড়ি-কে চিঠি লিখলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া।

‘মধ্য ভারত বিকাশ পথ’, যা ‘নাগপুর–ভোপাল–গ্বালিয়র গ্রিন করিডর’ নামেও পরিচিত, মধ্যপ্রদেশে প্রস্তাবিত একটি বড় ৭৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ে। এটি বেতুল থেকে মোরেনা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এবং ভোপাল ও গ্বালিয়রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্য, পর্যটন ও লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চিঠিতে সিন্ধিয়া উল্লেখ করেন, তাঁর গুণা লোকসভা কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ শহর যেমন অশোকনগর, মুঙ্গাওলি ও চন্দেরি বর্তমানে সরাসরি কোনও জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত নয়। এই শহরগুলিকে প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হলে পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, উন্নত সড়ক সংযোগ গ্বালিয়র–চম্বল বিভাগ এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অর্থনৈতিক কার্যকলাপে নতুন গতি আনবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

প্রস্তাবিত ‘মধ্য ভারত বিকাশ পথ’ বর্তমানে প্রাথমিক সমীক্ষা পর্যায়ে রয়েছে, যা আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। এই সমীক্ষায় চন্দেরি, অশোকনগর ও মুঙ্গাওলিকে করিডরের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিন্ধিয়া বলেন, ভারত সরকারের ‘ভিশন ২০৪৭’-এর আওতায় মধ্যপ্রদেশে প্রস্তাবিত নতুন এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই প্রকল্প।

প্রায় ৭৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডর মোরেনা থেকে শুরু হয়ে গ্বালিয়র–চম্বল অঞ্চল অতিক্রম করে নাগপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এতে বড় শহরগুলির মধ্যে যাতায়াত সহজ হবে এবং চন্দেরি ও অর্ছার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রেও যোগাযোগ উন্নত হবে। পাশাপাশি নাগপুর ও হায়দরাবাদের মধ্যেও সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

সিন্ধিয়া জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে মধ্যপ্রদেশে প্রস্তাবিত নর্মদা প্রগতি পথ, বিন্ধ্য এক্সপ্রেসওয়ে ও মালওয়া–নিমার বিকাশ পথের মতো প্রকল্পগুলি রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রদেশে পরিকাঠামো উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং নাগরিকরা উন্নত যোগাযোগ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ পাবেন।

Leave a Reply