ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশে বেসরকারি বিনিয়োগ ১১ বছরের সর্বনিম্নে

নয়াদিল্লি, ৭ মার্চ (আইএএনএস): দুর্বল ব্যবসায়িক পরিবেশ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে বাংলাদেশে বেসরকারি বিনিয়োগ ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ২২.০৩ শতাংশে নেমে এসেছে বেসরকারি বিনিয়োগ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য উদ্ধৃত করে ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি কমে যাওয়ায় টানা তৃতীয় বছরের মতো কমেছে সরকারি বিনিয়োগও।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৬.৫১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৬.৭৪ শতাংশ। ২০১৩ অর্থবছরের পর এটিই সর্বনিম্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিনিয়োগ কমে যাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক, কারণ প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। বিনিয়োগ কমে গেলে কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে যেতে পারে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা এম. মাসুর রিয়াজ বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি শক্তিশালী করতে বাংলাদেশের আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু প্রায় এক দশক আগে যে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন ছিল, তা খণ্ড খণ্ডভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

রিয়াজের মতে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণআন্দোলনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান বলেন, দুর্বল ব্যবসায়িক পরিবেশ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে গেছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগের পতন দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সাবেক গ্লোবাল লিড ফর রেগুলেটরি রিফর্মস সৈয়দ আখতার মাহমুদ বলেন, স্বল্পমেয়াদি ও কাঠামোগত—উভয় ধরনের সমস্যাই বিনিয়োগ কমার পেছনে কাজ করছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সুদের হার কম থাকাকালীন সময়ে অনেক বড় কোম্পানি ইতিমধ্যে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছিল। ফলে এখন নতুন বিনিয়োগের সুযোগ এলেও তারা অতিরিক্ত ঋণ নিতে পারছে না।

Leave a Reply