সন্দীপ বিশ্বাস
লখনউ সফররত, ৭ মার্চ : জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় কৌশলগত যোগাযোগের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে সামনে রেখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের উদ্যোগে শনিবার লখনউ ক্যান্টনমেন্টের সূর্য অডিটোরিয়ামে প্রথমবারের মতো ‘স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন কনক্লেভ’ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৫০০ জন অংশগ্রহণকারী নিয়ে অনুষ্ঠিত এই কনক্লেভে কৌশলগত যোগাযোগ, তথ্যযুদ্ধ এবং ধারণা ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক আলোচনা ও প্যানেল সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন ভারতীয় সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক, সরকারি যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের যোগাযোগ পেশাজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী ভাষণে সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল অনিন্দ্য সেনগুপ্ত বলেন, আধুনিক সংঘাতের প্রকৃতিতে মৌলিক পরিবর্তন ঘটেছে এবং যুদ্ধক্ষেত্র এখন তথ্য ও মানসিক পরিসরকেও অন্তর্ভুক্ত করছে। তিনি বলেন, ধারণা ব্যবস্থাপনা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ধারণা বৈধতা সৃষ্টি করে, বৈধতা প্রভাব তৈরি করে এবং সেই প্রভাবই শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারণ করে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নানা ধরনের বর্ণনা বা ‘ন্যারেটিভ’-কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং যুদ্ধের সীমার নিচে থাকা সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই কৌশলগত যোগাযোগকে আর প্রতিক্রিয়াশীল বা ব্যক্তিনির্ভর রাখা যাবে না; বরং তা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে এনে নীতিনির্ভর সক্ষমতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
প্রখ্যাত প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত বিষয়ক বিশ্লেষক নীতিন গোখলে কনক্লেভে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। “উদীয়মান তথ্যপরিসরে কৌশলগত যোগাযোগ” শীর্ষক বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি তৈরি করে।
কনক্লেভের প্রথম বিশেষজ্ঞ সেশনের বিষয় ছিল “উদীয়মান তথ্যপরিসরে ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির জন্য কৌশলগত যোগাযোগকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা হিসেবে গড়ে তোলা”। এই সেশনটি পরিচালনা করেন নীতিন গোখলে। এতে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রথম নারী স্থায়ী প্রতিনিধি তথা অবসরপ্রাপ্ত আইএফএস কর্মকর্তা রুচিরা কাম্বোজ, প্রাক্তন কূটনীতিক যশবর্ধন সিনহা এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজ শুক্লা।
এরপর “উদীয়মান মাল্টি-ডোমেইন অপারেশনে কৌশলগত যোগাযোগ: কৌশল, কাঠামো, প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি” শীর্ষক একটি বিশেষ ইন্টারঅ্যাকশন সেশন অনুষ্ঠিত হয়। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজ শুক্লার সঞ্চালনায় এই সেশনে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন কূটনীতিক দিলীপ সিনহা, প্রাক্তন আইপিএস কর্মকর্তা ড. শান্তনু মুখার্জি, অবসরপ্রাপ্ত আইআইএস কর্মকর্তা বীণা জৈন ও শরৎ চন্দ্র এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডি.পি. পাণ্ডে।
এছাড়া মিডিয়াকে নিয়ে দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম প্যানেল আলোচনার বিষয় ছিল “কৌশলগত ক্ষেত্রে ধারণা ব্যবস্থাপনা: মাইন্ড স্পেস গঠন”। এতে বক্তব্য রাখেন সন্দীপ উন্নিথান, শিবানি শর্মা এবং স্নেহেশ ফিলিপ।
দ্বিতীয় প্যানেল আলোচনার বিষয় ছিল “তথ্যশক্তি ও কৌশলগত যোগাযোগ”। হিন্দুস্তান টাইমসের ব্যুরো প্রধান পঙ্কজ জয়সওয়ালের সঞ্চালনায় এই আলোচনায় অংশ নেন মণীশ প্রসাদ ও অশোক শ্রীবাস্তব।
দিনব্যাপী আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে সেন্ট্রাল কমান্ডের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল নবীন সচদেবা সমাপনী বক্তব্য দেন এবং ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন।
এই কনক্লেভের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা হিসেবে মূল্যায়ন করা এবং উদীয়মান তথ্যপরিসরে নীতি, কাঠামো, প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি সম্পর্কে কার্যকর ধারণা ও সুপারিশ তৈরি করা।

