লখনউ, ৭ মার্চ (আইএএনএস): ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও বাড়তি করের বোঝা নিয়ে কেন্দ্র এবং উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব। শনিবার লখনউয়ে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের ওপর ক্রমেই বাড়ছে আর্থিক চাপ।
অখিলেশ যাদব বলেন, “বিজেপি নেতারা ক্ষমতা ছাড়লেই মুদ্রাস্ফীতি কমবে।” তাঁর অভিযোগ, সরকার একের পর এক কর বাড়িয়ে চলেছে, কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ।
রান্নার গ্যাসের দামের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একবার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়লে তা আর সহজে কমে না। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, গাড়ির ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপ করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে।
এদিনের কর্মসূচিতে প্রাক্তন ডিআইজি রাম শরদ রাম-সহ কয়েকজন ব্যক্তি সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দেন। তাঁদের স্বাগত জানিয়ে অখিলেশ বলেন, ক্রমশ বেশি মানুষ দলে যোগ দেওয়া থেকে বোঝা যায় যে সমাজবাদী পার্টির প্রতি জনসাধারণের আস্থা বাড়ছে।
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও রাজ্য সরকারকে কড়া সমালোচনা করেন তিনি। কানপুরের একটি ঘটনার উল্লেখ করে অখিলেশ অভিযোগ করেন, পুলিশের কল ডিটেইল প্রকাশ্যে আসায় কিছু পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে চোরাকারবারিদের যোগসাজশের অভিযোগ সামনে এসেছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি পুলিশ আধিকারিকদের কল রেকর্ড পাওয়া যায়, তবে চোরাকারবারিদের কল রেকর্ড কেন একইভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে না।
এছাড়াও বিজেপির বিরুদ্ধে একটি গানকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সমাজবাদী পার্টিকে বদনাম করার অভিযোগ তোলেন অখিলেশ। তিনি জানান, এই বিষয়ে এফআইআর দায়ের করা হবে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শাসনকালের কাজের কথাও তুলে ধরেন তিনি। অখিলেশ দাবি করেন, সমাজবাদী পার্টি সরকারের সময় একাধিক বড় উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, ছাত্রদের ল্যাপটপ বিতরণ, গোমতী রিভারফ্রন্ট প্রকল্প, ডায়াল-১০০ জরুরি পরিষেবা, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং ক্যান্সার ইনস্টিটিউট স্থাপন।
তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যে সর্বাধিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রও সমাজবাদী পার্টি সরকারের আমলেই স্থাপিত হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অখিলেশ যাদব। তাঁর অভিযোগ, কিছু জায়গায় ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। সমাজবাদী পার্টির কর্মীরা আপত্তি না তুললে বহু বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে যেতে পারত বলেও দাবি করেন তিনি।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে অখিলেশ বলেন, রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিশ্বস্ত অংশীদার। সেখান থেকে সস্তায় তেল পাওয়া গেলে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তা গ্রহণ করা উচিত।
শেষে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, দলিত ও সংখ্যালঘুদের জোট—যাকে তিনি পিডিএ (পিছড়া, দলিত, আলপসংখ্যক) জোট বলেছেন—সরকার গঠন করবে।
______

