উত্তরাখণ্ডে উন্নয়নের ৯ বছর: বিজেপি সরকারের অগ্রগতির প্রশংসায় অমিত শাহ

হরিদ্বার, ৭ মার্চ (আইএএনএস): উত্তরাখণ্ডে বিজেপি সরকারের ৯ বছরের শাসনকালকে উন্নয়নের সময় বলে উল্লেখ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার হরিদ্বারে ‘জন-জন কি সরকার: চার সাল বেমিসাল’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানটি ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি-র নেতৃত্বাধীন সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, ধামি সরকারের চার বছর পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারেরও ৯ বছর সম্পূর্ণ হয়েছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরাখণ্ডে এসে রাজ্যের ২৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপনের সূচনা করেছেন।

উত্তরাখণ্ড রাজ্য গঠনের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, একসময় ‘দেবভূমি’ নামে পরিচিত এই অঞ্চলকে আলাদা রাজ্যের স্বীকৃতি ও পরিচয়ের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন করতে হয়েছে। সেই সময় কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি আন্দোলনরত যুবকদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “উত্তরাখণ্ডের মানুষ আজও রামপুর তিরহার ঘটনা ভুলে যাননি।”

রাজ্য গঠনের কৃতিত্ব তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী-কে দেন। শাহ বলেন, ছোট রাজ্য গঠন নিয়ে কংগ্রেস তখন প্রশ্ন তুললেও বাজপেয়ী উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়—এই তিনটি রাজ্য তৈরি করেছিলেন এবং বর্তমানে সেগুলি উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে।

শাহ জানান, উত্তরাখণ্ডে প্রায় ১,১৩২ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প শুরু করেছে সরকার। এছাড়াও নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তার মতে, ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে কোনও থানায় এফআইআর দায়েরের পর সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যেই মামলার নিষ্পত্তি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

রোজগারের প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যে প্রায় ১,৯০০ যুবককে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ করা হয়েছে। ধামি সরকারের অ্যান্টি-চিটিং আইন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এনেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্বের বিষয়েও মন্তব্য করেন শাহ। তিনি বলেন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসবে না।

এ সময় তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-কেও কটাক্ষ করেন।

আগামী ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শাহ বলেন, আবারও পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে উত্তরাখণ্ডে বিজেপি সরকার গঠন করার লক্ষ্য নিয়েছে দল।

Leave a Reply