সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ: রাজ্যের অনিয়মিত কর্মচারীদের ৩ মাসে নিয়মিতকরণ, ৩০ শতাংশ বকেয়া পরিশোধ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ মার্চ: রাজ্যের অনিয়মিত কর্মচারীদের আগামী তিনমাসের মধ্যে ৩০ শতাংশ বকেয়া সহ নিয়মিতকরণের নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। তিনমাসের মধ্যে ৩০ শতাংশ বকেয়া সহ নিয়মিতকরণের নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। নিয়মিতকরণের স্কিম বাতিল এই অজুহাতে নিয়মিতকরণ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এই রায় এর প্রভাব পড়বে ত্রিপুরা রাজ্যের ৪০ হাজার অনিয়মিত কর্মচারীর উপর।  এ বিষয়ে রাজ্যের বরিষ্ঠ আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মন বিস্তারিত তথ্য জানান।

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধুমাত্র নিয়মিতকরণের স্কিম বাতিল হয়ে গেছে—এই অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিত করা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের তিন মাসের মধ্যে নিয়মিতকরণ করতে হবে এবং চাকরিতে যোগদানের সময় থেকে ৩০ শতাংশ বকেয়া বেতনও প্রদান করতে হবে।

এই রায়ের সূত্রপাত শিক্ষা দপ্তরের আটজন ডি.আর.ডব্লিউ কর্মীকে ঘিরে। কাঞ্চনপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় ও গঙ্গানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫ বছর ধরে কর্মরত এই আটজন কর্মী ২০২২ সালে ত্রিপুরা উচ্চ আদালতে নিয়মিতকরণের দাবি জানিয়ে মামলা দায়ের করেন।
তৎকালীন উচ্চ আদালতের বিচারপতি অরিন্দম লোধ ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই রাজ্য সরকারের নিয়মিতকরণ স্কিম বাতিল হওয়ার যুক্তি দেখিয়ে সেই মামলা খারিজ করে দেন। পরে তারা ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করলেও সেখানেও একই কারণে আবেদন খারিজ হয়।

পরবর্তীতে ওই আটজন কর্মী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেও কর্মীদের অনিশ্চয়তায় রাখা যায় না। আদালত নির্দেশ দেয়, তিন মাসের মধ্যে তাদের নিয়মিতকরণ করতে হবে।

এছাড়াও আদালত বলেছে, চাকরিতে যোগদানের পর থেকে তাদের ৩০ শতাংশ বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে হবে এবং নিয়মিতকরণের আগে যে সময় তারা কাজ করেছেন, সেই সময়কালও পেনশনের আওতায় গণ্য করতে হবে।

এ বিষয়ে ত্রিপুরা হাইকোর্টের বরিষ্ঠ আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণ জানান, সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে রাজ্যের প্রায় ৪০ হাজার অনিয়মিত কর্মচারীর সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেল। তিনি মনে করেন, এই রায় ভবিষ্যতে একই ধরনের কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Leave a Reply