জাপানের হোক্কাইডোতে নতুন করে মারাত্মক বার্ড ফ্লু সংক্রমণ শনাক্ত

টোকিও, ৬ মার্চ (আইএএনএস): জাপানের হোক্কাইডো প্রদেশে একটি পোলট্রি খামারে উচ্চমাত্রায় সংক্রামক বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ধরা পড়েছে। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে দেশটিতে এটি ২১তম এবং হোক্কাইডোতে চতুর্থ সংক্রমণের ঘটনা বলে জানিয়েছে জাপানের কৃষি মন্ত্রক।

জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হোক্কাইডোর আবিরা শহরের একটি পোলট্রি খামারে এই সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ওই খামারে প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার মুরগি রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন বুধবার খামার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রথম খবর পায়। একই দিন দ্রুত পরীক্ষায় বার্ড ফ্লুর প্রাথমিক ফল পজিটিভ আসে। পরে জেনেটিক পরীক্ষার মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সংক্রমণটি নিশ্চিত করা হয়।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে খামারের সব মুরগি নিধন, দাহ এবং মাটিতে পুঁতে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাধারণত জাপানে বার্ড ফ্লুর মৌসুম শরৎকাল থেকে শুরু হয়ে পরের বছরের বসন্ত পর্যন্ত চলতে থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (এইচ৫এন১) হলো ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের একটি উপপ্রকার, যা মূলত পাখি ও কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণীকে সংক্রমিত করে এবং বিরল ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যেও ছড়াতে পারে।

এইচ৫এন১ ভাইরাসের গুয়াংডং বংশধারা প্রথম ১৯৯৬ সালে শনাক্ত হয় এবং এরপর থেকে বিভিন্ন দেশে পাখির মধ্যে সংক্রমণ ঘটিয়ে আসছে। ২০২০ সালের পর থেকে এই ভাইরাসের একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের বহু দেশে বন্য পাখি ও পোলট্রির মধ্যে ব্যাপক মৃত্যু ঘটিয়েছে।

২০২১ সালে ভাইরাসটি উত্তর আমেরিকায় এবং ২০২২ সালে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায়ও ছড়িয়ে পড়ে।

মানুষের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে এবং মৃত্যুহারও তুলনামূলকভাবে বেশি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্রমিত পাখি বা দূষিত পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়ায়।

তবে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে সহজে একে অপরের মধ্যে ছড়ায় এমন প্রমাণ মেলেনি এবং দীর্ঘস্থায়ী মানুষে-মানুষে সংক্রমণের ঘটনাও রিপোর্ট হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মানুষের মধ্যে সংক্রমণ বিরল হলেও মৃত্যুহার বেশি হওয়ায় বিষয়টি উদ্বেগজনক।

Leave a Reply