নেপালের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ: রাজনীতিকের চেয়ে বেশি এক রহস্যময় র্যালপার

কাঠমান্ডু, ৬ মার্চ(আইএএনএস): নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক প্রজন্মের উত্থান দেখা যাচ্ছে। প্রবণতা যদি ঠিক থাকে, তবে দেশটি শিগগিরই একজন মিলেনিয়াল প্রধানমন্ত্রী পেতে পারে। সেই সম্ভাব্য মুখ হলেন বলেন্দ্র শাহ, যিনি বেশি পরিচিত ‘বালেন শাহ’ নামে।

প্রথাগত রাজনীতিকদের মতো তাঁর ভাবমূর্তি নয়। বরং তিনি অনেকটাই একজন সংগীতশিল্পী ও সোশ্যাল মিডিয়া-সচেতন তরুণ, যিনি জনপ্রিয়তার ঢেউয়ে ভর করে দ্রুত রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন।

কাঠমান্ডুর পরিচিত সংগীতশিল্পী রাজত দাস শ্রেষ্ঠা বলেন, “বালেন স্বতঃস্ফূর্ততায় বিশ্বাস করেন। তিনি প্রায়ই বলেন, তাঁর কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই—সেটাই তাঁর পরিকল্পনা।”

জার্মানির আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে-এর দিল্লিভিত্তিক সাংবাদিক স্যমন্তক ঘোষের মতে, “তরুণ প্রজন্মের কাছে বালেন এক ধরনের ত্রাণকর্তার প্রতীক।”

ঝাপা-৫ আসনের ডামাক এলাকায় তাঁর প্রচার শিবির থেকে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় প্রায়ই ভক্তরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। অনেকে তাঁর সঙ্গে সেলফি তোলার অনুরোধ করেন, আর তিনি হাসিমুখে তা মেনে নেন। ভক্তদের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই তিনি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে যান।

বালেন জনসমক্ষে প্রায়ই কালো চশমা পরে থাকেন এবং কখনও কখনও নাটকীয় ভঙ্গিতে ভক্তদের উদ্দেশে ‘আই লাভ ইউ’ বলেন, যা উপস্থিত জনতার মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। তবে প্রচলিত রাজনৈতিক নেতাদের মতো জনসভা বা স্থানীয়দের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতা তিনি কমই করেন; বরং প্রচারকালে দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

১৯৯০ সালের ২৭ এপ্রিল কাঠমান্ডুতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পেশায় তিনি একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। পরে র্যাডপ সংগীতশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর ১৫তম মেয়র নির্বাচিত হন।

র্যা প সংগীত ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি আগেই জাতীয় পরিচিতি পান। তাঁর গান প্রায়ই রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রশ্ন তুলত, যা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

মেয়র হিসেবে তিনি দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং সক্রিয় প্রশাসনিক ভূমিকার জন্য পরিচিত হন। রাজনীতিতে তাঁর অপ্রচলিত পটভূমি তাঁকে একজন ‘আউটসাইডার সংস্কারক’ হিসেবে পরিচিতি দেয়।

২০১২ সালের দিকে তিনি ‘নেফপপ’ ধারার র্যাাপ সংগীতে সক্রিয় ছিলেন, যেখানে রাজনৈতিক বার্তাসমৃদ্ধ গান পরিবেশন করে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

মেয়র পদে মাঝপথে ইস্তফা দিয়ে তিনি পরে যোগ দেন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার, যুব ক্ষমতায়ন ও মেধাপাচার রোধের মতো বিষয় নিয়ে প্রচার শুরু করেন।

অনেকের মতে, বালেন শাহ নেপালের পুরনো রাজনৈতিক ধারার বাইরে নতুন এক পরিবর্তনের প্রতীক। তবে যদি তিনি সত্যিই প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে তাঁকে আরও বড় পরিসরে—সমগ্র নেপালের জনগণের অনুমোদন ও সমর্থন নিয়ে—শাসন চালাতে হবে।

Leave a Reply