মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা ও দুর্বল ডলারের প্রভাবে সোনা-রুপোর দামে ঊর্ধ্বগতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা ও দুর্বল ডলারের প্রভাবে সোনা-রুপোর দামে ঊর্ধ্বগতি

নয়াদিল্লি, ৬ মার্চ (আইএএনএস): মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এবং ডলারের দুর্বলতার প্রভাবে শুক্রবার সোনা ও রুপোর দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। আগের সেশনে সামান্য পতনের পর এদিন আবারও দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (এমসিএক্স) এপ্রিল ডেলিভারির সোনার ফিউচারস দিনের মধ্যে ০.৬৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬০,৭০০ টাকায় পৌঁছায়। অন্যদিকে এমসিএক্সে মে ডেলিভারির রুপোর ফিউচারস ১.৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি কেজি ২,৬৭,১০০ টাকায় লেনদেন হয়।

দিনের শুরুতে এমসিএক্সে রুপোর দাম প্রায় ২.৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, আর সোনার দামও ১ শতাংশের বেশি বাড়ে। পরে লাভ বুকিংয়ের ফলে কিছুটা স্থিতি আসে।

বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেব্রুয়ারি মাসের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন, যা শুক্রবার প্রকাশ হওয়ার কথা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারের বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারীর ধারণা যে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ১৮ মার্চ শেষ হওয়া নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট রুপোর দাম সামান্য বেড়ে প্রতি আউন্স ৮২.২৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে স্পট সোনার দাম দিনের হিসাবে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং স্বল্পমেয়াদে ফেডের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমিয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সপ্তম দিনে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে ডলার সূচক ০.২৯ শতাংশ কমে ৯৯.০৩-এ নেমে এসেছে, ফলে ডলারভিত্তিক সোনা বিদেশি মুদ্রায় ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে কড়া অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং কিউবা সম্পর্কেও কিছু পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একইসঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান, দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক অভিযান চালানোর মতো পর্যাপ্ত অস্ত্রভাণ্ডার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে।

অন্যদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি বাড়লেও শুক্রবার সকালে কিছুটা কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলিকে সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করার পর বাজারে এই পতন দেখা যায়।

ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে ব্রেন্ট ক্রুডের এপ্রিল চুক্তির দাম প্রতি ব্যারেল ৮৪.২১ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল, যা আগের দিনের তুলনায় ১.৫২ শতাংশ কম।

বিশ্লেষকদের মতে, এমসিএক্সে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৮,০০০ ও ১,৫৬,৬০০ টাকায় সমর্থন পেতে পারে, আর প্রতিরোধের স্তর ১,৬১,১০০ ও ১,৬২,৮০০ টাকা। অন্যদিকে রুপোর ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ২,৫৭,৭০০ ও ২,৫২,০০০ টাকা সমর্থন এবং ২,৬৬,০০০ ও ২,৭১,০০০ টাকা প্রতিরোধের স্তর হিসেবে ধরা হচ্ছে।

Leave a Reply