তেহরান, ৫ মার্চ (আইএএনএস): ভারত সফর শেষে ফেরার পথে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এই ঘটনাকে “সমুদ্রের উপর নৃশংসতা” বলে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন, এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তিক্ত পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ইরানের দাবি, ইরানি নৌবাহিনীর ফ্রিগেট আইরিস ডেনা আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনও সতর্কতা ছাড়াই মার্কিন হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে প্রায় ১৩০ জন নাবিক ছিলেন এবং এটি সম্প্রতি ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি হিসেবে ভারত সফর করেছিল।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি বলেন, ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২,০০০ মাইল দূরে সমুদ্রে যুক্তরাষ্ট্র একটি নৃশংসতা ঘটিয়েছে। ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি হিসেবে থাকা ফ্রিগেট ‘ডেনা’ আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনও সতর্কতা ছাড়াই আঘাত করা হয়েছে। এই নজির স্থাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে একদিন তীব্রভাবে অনুতপ্ত হতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে একটি মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো নিক্ষেপ করে জাহাজটিকে ডুবিয়ে দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার কোনও মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের জাহাজ ডুবিয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ফ্রিগেটটি সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নৌ মহড়া মিলান আন্তর্জাতিক নৌবহর পর্যালোচনায় অংশ নিয়েছিল। ১৮ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ওই মহড়ায় প্রায় ৭৪টি দেশের নৌবাহিনী অংশগ্রহণ করে। ওই সময় জাহাজটি অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম বন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানায় ভারতীয় নৌ বাহিনী।
মহড়া শেষ হওয়ার পর জাহাজটি অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে রওনা দিয়ে ইরানের উদ্দেশ্যে ফিরছিল। ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় হামলার শিকার হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে হামলার দায় অস্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপদ ভেবে থাকা একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো দিয়ে ডুবিয়ে দিয়েছে।
ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত জাহাজের প্রায় ৩০ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের গলের কারাপিটিয়া হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। চলমান সংঘাতের সূচনা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমন্বিতভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

