জাতিসংঘ, ৫ মার্চ (আইএএনএস): জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাজকর্মে ক্রমবর্ধমান বিভাজনের স্পষ্ট চিত্র সামনে এসেছে। ইরানকে মার্চ মাসের এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের বিরোধের জেরে পরিষদের কর্মসূচি অনুমোদনই আটকে গেছে। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার মাসের প্রথম অধিবেশন জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে পরিষদের কাজ। ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলেনিয়া ট্রাম্প। এরপর দুই দিন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ থাকে এবং বৃহস্পতিবার আবার বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের কর্মসূচি বা ‘প্রোগ্রাম অব ওয়ার্ক’ অনুমোদনের জন্য সদস্যদের সর্বসম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক কৌশলে “প্ল্যান অব ওয়ার্ক” নামে একটি সূচি প্রকাশ করেছে, যেখানে মাসের ২১টি কর্মদিবসের মধ্যে ১১ দিনের বৈঠক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বাকি ১০ দিন ফাঁকা রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুতারেস-এর মুখপাত্র স্টিফেন ডোজারিক বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে ঐক্যের অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের। সেই লক্ষ্যেই সদস্যদের মধ্যে সাধারণ সমঝোতা তৈরি হওয়া জরুরি।
বিরোধকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে রাশিয়া। মস্কো তাদের জাতিসংঘ মিশনের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, কেন তারা এবং চিন মার্চ মাসের কর্মসূচি অনুমোদন আটকে দিয়েছে।
বিরোধের মূল কারণ হলো ইরান সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা কমিটির কাজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব। মার্চ মাসে বর্ণানুক্রমিক রোটেশন অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগ নেয়।
এই কমিটি ‘১৭৩৭ কমিটি’ নামে পরিচিত, যা ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের নম্বর থেকে এসেছে। ওই চুক্তিটি জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিব প্ল্যান অফ একশন নামে পরিচিত।
চুক্তির অধীনে ইরানের উপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলেও শর্ত ছিল, ইরান যদি পরমাণু কর্মসূচির সীমা লঙ্ঘন করে, তাহলে আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে, যাকে ‘স্ন্যাপব্যাক’ বলা হয়।
ইউনাইটেড কিংডম, ফ্রান্স এবং জার্মানি দাবি করেছে, ইরান নির্ধারিত সীমার বেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে এবং সেই কারণেই তারা স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া চালু করেছে।
তবে রাশিয়ার বক্তব্য, ওই তিন দেশের এই পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার নেই এবং বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যেও কোনও ঐকমত্য নেই।
রাশিয়া জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ১৭৩৭ কমিটির বিষয়টি এজেন্ডা থেকে সরাতে অস্বীকার করায় তাদের আর কোনও উপায় ছিল না, তাই মার্চ মাসের কর্মসূচি অনুমোদনে আপত্তি জানাতে হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতিত্বের সময় একইভাবে কর্মসূচি আটকে দিয়েছিল রাশিয়া।
প্রথা অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদের মাসিক সভাপতিরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুটি বিশেষ অধিবেশন আয়োজন করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে একটি অধিবেশন করেছে, যেখানে শিশু, শিক্ষা ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আরেকটি অধিবেশন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যার বিষয় “জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও নিরাপত্তা”।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে ফিলিস্তিন, সিরিয়া, মিয়ানমার এবং আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

