মার্কিন-ইসরায়েলি ‘অপরাধমূলক সামরিক আগ্রাসনের’ জবাব দেওয়া হবে: ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত

নয়াদিল্লি, ৫ মার্চ (আইএএনএস): যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত “অপরাধমূলক সামরিক আগ্রাসনের” বিরুদ্ধে ইরান শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে সতর্ক করলেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ ফাথালি। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, সংঘাতের সূচনা ইরান করেনি, তবে প্রয়োজনে তেহরান কঠোর জবাব দেবে।

রাষ্ট্রদূত ফাথালি জানান, ইরান তখনও আলোচনার টেবিলে ছিল, কিন্তু সেই প্রক্রিয়াকেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, আমরা আলোচনার টেবিলে ছিলাম। তারা সেই আলোচনার টেবিল ধ্বংস করেছে। তারাই যুদ্ধ শুরু করেছে। আমরা অপরাধমূলক সামরিক আগ্রাসনের শিকার। আমরা ঘোষণা করেছি যে আমরা জোরালোভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলার প্রথম দিকেই বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করা হয়েছে। তাঁর দাবি, একটি হামলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং সেখানে ১৬০ জন ছাত্রী নিহত হয়। এ ঘটনাকে তিনি “ভয়াবহ” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বাইরে গিয়ে সংঘাতকে আরও তীব্র করে তোলা হয়েছে।

ভারত মহাসাগরে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন সাবমেরিন হামলার খবর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত। তাঁর কথায়, তারা খরচ ও লাভের হিসাব করে এবং সৌভাগ্যবশত তারা ইরানের ক্ষমতা ও সক্ষমতা সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানে। আমরা যুদ্ধ চাই না, তারাই যুদ্ধ শুরু করেছে। কিন্তু যুদ্ধ কতদিন চলবে, তা আমাদের হাতেও নির্ভর করছে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন জল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফাথালি বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি। এই বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই, তিনি জানান।

প্রতিবেশী অঞ্চলে হামলার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর আক্রমণ করে না এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে। তবে যেসব ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা চালানো হবে, সেগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

ভারতের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, দিল্লির সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এবং তা আরও জোরদার করার বিষয়ে ইরান আগ্রহী। তাঁর বক্তব্য, ভারত সরকারের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে আমরা এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চাই।

একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান যুদ্ধ ও শান্তি দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। তবে দেশটি শান্তিকেই অগ্রাধিকার দেয়। তাঁর কথায়, ইরান যুদ্ধ ও শান্তি—দুটির জন্যই প্রস্তুত, কিন্তু আমরা অবশ্যই শান্তিকেই প্রাধান্য দিই। দুর্ভাগ্যবশত তারাই যুদ্ধ শুরু করেছে।

পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে এই মন্তব্য সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, যার প্রভাব ভারতের তেল ও গ্যাস সরবরাহের ওপরও পড়তে পারে।

Leave a Reply