অন্টারিও (কানাডা), ৫ মার্চ (আইএএনএস): কানাডার অন্টারিও প্রদেশে খালিস্তানপন্থী আন্দোলনের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত এক পাঞ্জাবি সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় কানাডার পাঞ্জাবি প্রবাসী সমাজে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ন্যান্সি গ্রেওয়াল (৪৫) ৩ মার্চ রাতে অন্টারিওর উইন্ডসর–এসেক্স অঞ্চলের লাসাল শহরে নিজের বাসভবনে ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হন। রাত সাড়ে ৯টার কিছু আগে ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
এসেক্স–উইন্ডসর এমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসের প্যারামেডিকরা গ্রেওয়ালকে একাধিক গুরুতর ছুরির আঘাতে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যান্সি গ্রেওয়াল পাঞ্জাবি প্রবাসী সমাজে পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউবার ছিলেন। পাঞ্জাবের বিভিন্ন ইস্যু, ভারতীয় রাজনীতি এবং প্রবাসী সমাজের নানা বিষয় নিয়ে তিনি নিয়মিত মতামত দিতেন।
বিশেষ করে খালিস্তানপন্থী চরমপন্থী সংগঠন ও নেতাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরব সমালোচনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তিনি ‘সিখস ফর জাস্টিস’ সংগঠনের নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনসহ খালিস্তানপন্থী বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব ও আন্দোলনের কড়া সমালোচনা করতেন।
গ্রেওয়াল অভিযোগ করেছিলেন, পান্নুনসহ কিছু কর্মী বাইরের শক্তির প্রভাবে শিখ প্রতিষ্ঠানগুলিকে বদনাম করছে এবং প্রকৃত সমস্যার সমাধানের বদলে বিভাজনের রাজনীতি উসকে দিচ্ছে। তিনি প্রকাশ্যে খালিস্তানপন্থী বক্তব্যের বিরোধিতা করে সমালোচকদের ভারতেই সরাসরি বিষয়গুলি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং গুরুদ্বারাগুলিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচারের জন্য ব্যবহার করারও সমালোচনা করেছিলেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় এক বিবৃতিতে লাসাল পুলিশ সার্ভিস জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এবং প্রাথমিকভাবে এটিকে “বিচ্ছিন্ন ঘটনা” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ৩ মার্চ রাত প্রায় সাড়ে ৯টার সময় টড লেন এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত ন্যান্সি গ্রেওয়াল উইন্ডসর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকে ভিডিও নজরদারির ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে গ্রেওয়ালের মৃত্যুর খবরে উইন্ডসর–লাসাল এলাকার স্থানীয় সমাজ ও তাঁর অনলাইন অনুসারীদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তীব্র মতবিরোধপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনায় সরব ব্যক্তিদের জন্য এরকম ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

