কাঠমান্ডু, ৪ মার্চ (আইএএনএস): দক্ষিণ এশিয়ায় পরপর দুটি যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দুই প্রতিবেশী দেশে সরকার পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করেছিল। তবে ক্ষমতাচ্যুত দুই প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরিণতি হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
পূর্বে বাংলাদেশে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তাঁর দল আওয়ামী লীগ-কেও রাজনৈতিক কার্যকলাপ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে উত্তরে নেপালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা অলি আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বৃহস্পতিবারের ভোটে তিনি ঝাপা-৫ আসনে লড়ছেন।
কাঠমান্ডুর জেন-জি আন্দোলনের অন্যতম মুখ ২৩ বছরের আমৃতা বান বলেন, “আমি তাঁর কাজ পছন্দ নাও করতে পারি, তাঁকে নির্বাচনের বাইরে দেখতে চাইতেও পারি, কিন্তু আমাদের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।”
তিনি যোগ করেন, “কিছু বিষয় আছে যা মেনে চলতেই হয়, তা ভালো লাগুক বা না লাগুক।”
গত বছরের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন অলির সরকারের সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে যুব আন্দোলন শুরু হয়, তার সামনের সারিতে ছিলেন বান। ২০২৫ সালের ‘জেন জেড মুভমেন্ট’ মূলত সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হলেও পরে তা দুর্নীতি, বেকারত্ব, সেন্সরশিপ ও রাজনৈতিক স্থবিরতার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভে রূপ নেয়।
ডিজিটালভাবে সচেতন তরুণ প্রজন্ম র্যালি, শিল্প-প্রচার ও প্রতীকী প্রতিবাদের মাধ্যমে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যায়। নিরাপত্তাবাহিনীর কড়া পদক্ষেপ সত্ত্বেও স্বচ্ছতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে অনড় ছিল আন্দোলনকারীরা।
৮ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে এক স্কুলপড়ুয়ার মৃত্যু এখনও তাড়া করে বেড়ায় আমৃতাকে। “সেদিন যারা মারা গিয়েছিল, তাদের মধ্যে এক স্কুলছাত্রও ছিল,” স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁপে ওঠেন তিনি। কীভাবে তিনি বেঁচে ফিরেছিলেন? “ভাগ্য… আর হয়তো বাবা-মায়ের আশীর্বাদ,” বলেন তিনি।
কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ২৫ বছরের বলরাম খাড়কে এখন নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত। তিনি জেন-জি কর্মীদের সমন্বয় করছেন তাঁদের ‘আইকন’ বালেন্দ্র শাহের পক্ষে। ৩৫ বছর বয়সি ইঞ্জিনিয়ার-থেকে-রাজনীতিক, জনপ্রিয় নামে বালেন, রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি (আরএসপি)-র প্রার্থী হিসেবে ঝাপা-৫ আসনে অলির বিরুদ্ধে লড়ছেন।
খাড়কের বক্তব্য, “নেপাল একটি গণতান্ত্রিক দেশ, যেখানে আইনের শাসন বিদ্যমান। কেউ প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলতে পারেন, কিন্তু যতক্ষণ না আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করছে, ততক্ষণ তাঁর নির্বাচনে লড়ার অধিকার আছে।”
বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০২৪ সালের অগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের অভিযোগে তাঁকে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে।
একই উপমহাদেশ, দুই স্বাধীন রাষ্ট্র—কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত দুই প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভাগ্য আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে।
______

