তামিলনাড়ুর পর্যটন আধিকারিকদের জন্য প্রশিক্ষণ শুরু করল কেরলের ভ্রমণ ইনস্টিটিউট

তিরুবনন্তপুরম, ৪ মার্চ (আইএএনএস): আন্তঃরাজ্য সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে কেরল সরকারের পর্যটন দফতরের মানবসম্পদ উন্নয়ন শাখা কেরালা ইনস্টিটিউট অফ ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্রাভেল স্টাডিজ (কিটস) তামিলনাড়ুর পর্যটন আধিকারিকদের জন্য একটি সমন্বিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে। কেরলের টেকসই ও উদ্ভাবনী পর্যটন মডেলকে কেন্দ্র করেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন।

তিরুবনন্তপুরমে কিটস ক্যাম্পাস থেকে অনলাইনে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কেরলের পর্যটন ও গণপূর্তমন্ত্রী পি. এ. মোহাম্মদ রিয়াস। এই কর্মসূচিতে তামিলনাড়ুর রাজ্য ও জেলা স্তরে কর্মরত ৬০ জন ট্যুরিজম ইনফরমেশন অফিসার অংশ নিচ্ছেন।

দুটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচ বুধবার শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় ব্যাচ চলবে ১০ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত।

অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানিয়ে রিয়াস বলেন, দক্ষিণ ভারতে পর্যটনের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, “তামিলনাড়ুর সহকর্মীদের বিশ্বমানের শিক্ষার অভিজ্ঞতা দিতে কেরল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের সফল মডেলগুলি ভাগ করে নিয়ে আমরা গোটা অঞ্চলের সম্মিলিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই।”

কেরলের পর্যটন সচিব কে. বিজু বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কিটস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

পাঠ্যক্রমে কেরলের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘রেসপনসিবল ট্যুরিজম’ (আরটি) উদ্যোগ, টেকসই গন্তব্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্র্যান্ডিং ও প্রচার কৌশলের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা নীতিনির্ধারণী কাঠামো ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা পাবেন, যা কেরলকে সম্প্রদায়ভিত্তিক ও পরিবেশ-সচেতন পর্যটন উন্নয়নের মানদণ্ডে পরিণত করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অগস্ট মাসে কিটসের একটি প্রতিনিধিদল চেন্নাই-তে তামিলনাড়ু পর্যটন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে দক্ষতা উন্নয়ন, মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ ও ট্যুরিস্ট গাইড সার্টিফিকেশন নিয়ে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছিল। বর্তমান কর্মসূচি সেই আলোচনারই ফল।

ভবিষ্যতে তামিলনাড়ুর জেলা শাসকদের একটি প্রতিনিধিদল কেরলের জেলা পর্যটন প্রোমোশন কাউন্সিল (ডিটিপিসি) মডেল এবং ‘ডেস্টিনেশন চ্যালেঞ্জ’ কাঠামো পরিদর্শনে আসতে পারেন বলেও সূত্রের খবর।

কর্তৃপক্ষের মতে, এই সহযোগিতা দক্ষিণ ভারতে একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থার বিকাশে “ট্যুরিজম ডিপ্লোমেসি”-র সুসংগঠিত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply