নয়াদিল্লি, ৪ মার্চ (আইএএনএস): মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর মৃত্যুর জেরে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। কূটনৈতিক সংযমের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু-র ১৯৫৮ সালের একটি চিঠির উদ্ধৃতি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন।
বিজেপির জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত মালব্য তাঁর পোস্টে হাঙ্গেরির বিপ্লবী নেতা ইমরে নাগি-এর মৃত্যুদণ্ড প্রসঙ্গে নেহরুর সতর্ক অবস্থানের উল্লেখ করেন। ১৯৫৬ সালের সোভিয়েত-বিরোধী আন্দোলনের সময় হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী থাকা নাগিকে ১৯৫৮ সালের ১৬ জুন রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বুদাপেস্টে ফাঁসি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও নেহরু তৎকালীন সময়ে সরকারি বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযম দেখিয়েছিলেন।
মালব্য যে উদ্ধৃতিটি শেয়ার করেছেন, তাতে নেহরু লিখেছিলেন: “এটি আমার স্পষ্ট মত হলেও, কোন রূপে এবং কোন সময়ে তা প্রকাশ করা উচিত, তা বিবেচনা করতে হবে। অন্তত এই মুহূর্তে এ বিষয়ে সরকারি ঘোষণা না করাই শ্রেয় বলে আমি একমত।”
পোস্টটির সঙ্গে নেহরুর একটি সাদা-কালো ঐতিহাসিক আলোকচিত্রও শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে তাঁকে চিঠিপত্র নিয়ে কাজ করতে দেখা যায়—যা সে সময়ের কূটনৈতিক ভাবনার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পোস্টটি বহু মানুষের নজর কেড়েছে।
উল্লেখ্য, ৮৬ বছর বয়সি খামেনেই ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলায় নিহত হন বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে দেশে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি কেন্দ্রের নীরবতার সমালোচনা করে বলেছে, এটি সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত এবং ভারতের আরও জোরালো অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে কেউ কেউ ইরানের সঙ্গে সংহতির ডাক দিয়েছেন, কারণ দেশটি ভারতের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী ও কৌশলগত অংশীদার।
এই প্রেক্ষাপটে নেহরুর বক্তব্য তুলে ধরে মালব্য কার্যত ইঙ্গিত করেছেন যে অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি সরকারি মন্তব্য না করে কৌশলগত সময়ের অপেক্ষা করা বাঞ্ছনীয়। “অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আগেভাগে মন্তব্য করার ঝুঁকি নেহরু বুঝতেন,”—পোস্টে এমনটাই লিখেছেন তিনি, যদিও সরাসরি ইরান প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি।

