মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র, সোনা-রুপোর দামে ১ শতাংশের বেশি উল্লম্ফন

নয়াদিল্লি, ৪ মার্চ (আইএএনএস): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল জোট ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বেড়েছে। তার জেরেই বুধবার সোনা ও রুপোর দামে ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি দেখা গেল।

এমসিএক্সে এপ্রিল ডেলিভারির সোনার ফিউচার্স ইন্ট্রাডে লেনদেনে সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ ১.০৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬২,৭৯০ টাকায় পৌঁছয়। একই সময়ে মে ডেলিভারির রুপোর ফিউচার্স ১.৮৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি ২,৭০,২০০ টাকায় দাঁড়ায়।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন। পাশাপাশি, মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে অনেকেই মনে করছেন, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে—যা সোনার পক্ষে ইতিবাচক ইঙ্গিত।

তবে মূল্যবান ধাতুর দামে উত্থান সত্ত্বেও গোল্ড ও সিলভার এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ)-এ বুধবার তীব্র সংশোধন দেখা গেছে। প্রধান সিলভার ইটিএফগুলি ৭.১২ শতাংশ থেকে ৭.৪৩ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়, আর গোল্ড ইটিএফ ৩ থেকে ৩.৮৭ শতাংশ পর্যন্ত নিম্নমুখী হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫,১৩৮.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচার্স ০.৫ শতাংশ বেড়ে ৫,১৪৭.১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত সোনার দাম ১৯ শতাংশ বেড়েছে, আর ২০২৫ সালে তা ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে—মূলত ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির শক্তিশালী ক্রয়ের জেরে।

এদিকে, ডলার সূচক ০.১৫ শতাংশ বেড়ে ৯৯.২০-তে পৌঁছেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলার-সমর্থিত সোনা তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে, যা হলুদ ধাতুর দামে আরও বড় উত্থানে কিছুটা লাগাম টেনেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক নৌ ও বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে বলে খবর।

এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রপথে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় বিঘ্নের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন।

ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৫ ডলারের উপরে উঠেছে, টানা দুই দিনে প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দামও ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলারের কাছাকাছি লেনদেন হয়েছে। বিশেষত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা সরবরাহ ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

এদিকে, মার্কিন ম্যানুফ্যাকচারিং ও নন-ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই, এডিপি নন-ফার্ম এমপ্লয়মেন্ট চেঞ্জ এবং বেকারত্বের তথ্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা, যাতে ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতির দিশা বোঝা যায়।

এক বিশ্লেষকের মতে, এমসিএক্স সোনার ক্ষেত্রে ১,৫৮,০০০ এবং ১,৬২,০০০ টাকা সাপোর্ট লেভেল, আর ১,৭৫,০০০ ও ১,৮০,০০০ টাকা রেজিস্ট্যান্স। এমসিএক্স রুপোর ক্ষেত্রে ২,৫০,০০০ ও ২,৭০,০০০ টাকা সাপোর্ট, এবং ৩,০০,০০০ ও ৩,২০,০০০ টাকা রেজিস্ট্যান্স হিসেবে কাজ করতে পারে।

Leave a Reply