বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থায় আস্থা পুনর্গঠন বিএনপি সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ: রিপোর্ট

ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল দেশের বিচারব্যবস্থায় জনআস্থা পুনরুদ্ধার করা—এমনটাই উঠে এসেছে এক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা জনমনে স্বস্তির বদলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে নতুন প্রশাসনের উপর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অর্থবহ সংস্কার আনার দায়িত্ব বর্তেছে।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের ডেপুটি সলিসিটর এমডি আরিফুজ্জামান বলেন, নতুন বিএনপি সরকার একদিকে প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও সংশয়ের উত্তরাধিকার পেয়েছে। অতীতের ভুলগুলো খোলাখুলি মোকাবিলা না করলে আস্থা ফেরানো সম্ভব নয় বলেও তিনি মত দেন।

আরিফুজ্জামান লিখেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা বা ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে গণগ্রেফতার ও বিস্তৃত প্রসিকিউশন ক্ষমতা প্রদানকারী আইনগুলিকে পুনর্বিবেচনা ও সংশোধন করা জরুরি, যাতে অপব্যবহার রোধ করা যায়। বিচারপতি নিয়োগ ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থাকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার উপরও তিনি জোর দেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জনমনে যে সব মামলার ধারণা তৈরি হয়েছে, সেগুলির ন্যায়সংগত পর্যালোচনা প্রয়োজন। চলতি মামলায় রাজনৈতিক নেতাদের প্রকাশ্য মন্তব্য বা তদন্তকারীদের উপর চাপ প্রয়োগ জনবিশ্বাসকে ক্ষুণ্ণ করে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আইন বিশেষজ্ঞের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতি কখনওই খুব স্থিতিশীল ছিল না। গণগ্রেফতার, বিতর্কিত বিচার এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার মিশ্রণ ধীরে ধীরে জনআস্থা ক্ষয় করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, কেবল বক্তৃতা বা আইন সংশোধন করলেই আস্থা ফিরে আসবে না। বরং প্রতিটি মামলায় আইনের নিরপেক্ষ ও ধারাবাহিক প্রয়োগ নাগরিকদের চোখে দৃশ্যমান হতে হবে। বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা শুধু ঘোষণায় নয়, বাস্তব প্রয়োগে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

আরিফুজ্জামান বলেন, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে আইন প্রণয়ন বা সংশোধন সহজ হতে পারে, কিন্তু জনবিশ্বাস জোর করে আদায় করা যায় না। তা অর্জন করতে হয় দৃশ্যমান ন্যায়, প্রক্রিয়াগত কঠোরতা এবং অতীতের বিতর্কিত ধারা থেকে স্পষ্ট বিচ্ছেদের মাধ্যমে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি নতুন সরকার আইনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে পারে, তবে তা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই নয়—বাংলাদেশের মূল আদর্শকেই পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে; যেখানে ক্ষমতা নীতির অধীন এবং আদালত শক্তিশালীদের রক্ষা নয়, বরং সকলের অধিকার সুরক্ষার জন্য বিদ্যমান।

গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা লালনকারী দেশের ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থায় আস্থা পুনরুদ্ধারই হতে পারে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার আসল পরীক্ষার ক্ষেত্র—এমনটাই মত তাঁর।

Leave a Reply