বেঙ্গল এসআইআর: বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চার জেলায় আইনশৃঙ্খলা তদারকিতে চার সিনিয়র আইপিএস অফিসার মোতায়েন

কলকাতা, ২৮ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তিনটি পৃথক শ্রেণিতে প্রকাশকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য উত্তেজনার আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চারটি জেলাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ওই জেলাগুলিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকির জন্য চারজন সিনিয়র আইপিএস অফিসারকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত জেলাগুলি হল মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও কোচবিহার। চারটিই বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভাগ করে নেয়। কোচবিহার ও মালদা উত্তরবঙ্গে, আর মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া দক্ষিণবঙ্গে অবস্থিত। মালদা ও মুর্শিদাবাদ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা হিসেবে পরিচিত এবং অতীতে মাঝে-মধ্যেই উত্তেজনার সাক্ষী থেকেছে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর ২টো থেকে চার আধিকারিক নিজ নিজ দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।

অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি ফোর্স) অজয় নন্দকে মালদা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে সহায়তা করবেন রাজ্যের কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি ফোর্সের এক আধিকারিক এবং মালদা জেলা পুলিশের এক আধিকারিক।

ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (কোস্টাল সিকিউরিটি) সুনীল কুমার যাদবকে কোচবিহার জেলার তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকবেন রাজ্যের র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের এক আধিকারিক এবং কোচবিহার জেলা পুলিশের এক আধিকারিক।

ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (হেডকোয়ার্টার্স) রশিদ মুনির খানকে মুর্শিদাবাদ জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে সহায়তা করবেন কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি ফোর্সের দুই সদস্য এবং মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের এক আধিকারিক।

ইন্সপেক্টর জেনারেল (ট্র্যাফিক) গৌরব শর্মাকে নদিয়া জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে সহায়তা করবেন নদিয়া জেলা পুলিশের দুই আধিকারিক।

এদিকে, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রথম দফার ২৪০টি কোম্পানি শুক্রবার থেকে ধাপে ধাপে রাজ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে। আগামী ১ মার্চ থেকে এই বাহিনী মোতায়েন করা হবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রথম পর্যায়ের অংশ হিসেবে।

প্রথম দফায় থাকবে ১১০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৫৫ কোম্পানি বিএসএফ, ২১ কোম্পানি সিআইএসএফ, ২৭ কোম্পানি আইটিবিপি এবং ২৭ কোম্পানি এসএসবি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই এবং আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পূর্বেই এই বাহিনী মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া, দ্বিতীয় দফায় আরও ২৪০ কোম্পানি সিএপিএফ আগামী ১০ মার্চ থেকে মোতায়েন করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এতে রাজ্যের নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার হবে।

Leave a Reply