মন কি বাত কার্যক্রমে অংশগ্রহনে ত্রিপুরা শীর্ষে রয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২২ ফেব্রুয়ারি: মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আজ বলেছেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর মন কি বাত কর্মসূচির মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে অনুপ্রাণিত করেন এবং সারা দেশের মানুষ এই কার্যক্রম থেকে অনুপ্রেরণা ও নির্দেশনা পান। আজ মোহনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ৪৩ নং বুথের অন্তর্গত মুকাম পাড়া জুনিয়র জে.বি. বিদ্যালয়ে যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’ কার্যক্রমের ১৩১ তম পর্ব সম্প্রচার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আমাদের ভারতবর্ষে ট্যালেন্টের কোন অভাব নেই। কিছুদিন আগে আমি ফটিকরায় থেকে ফিরছিলাম। আগরতলা স্টেশনে নামার পর খবর পেলাম ত্রিপুরারই একটা মেয়ে ট্রেন চালিয়ে আগরতলায় আসছে। ২৫ থেকে ২৬ বছর বয়স হবে তার। ট্রেনের কো পাইলট ওই মেয়েটি এসে আমার সঙ্গে দেখা করল। ওকে আমি সম্মান জানিয়ে অভিনন্দিত করেছি। তাই আমাদের মেধার কোন কম নেই। জাতি জনজাতি মণিপুরী সংখ্যালঘু সহ সকল অংশের মানুষ মিলে আমাদের রাজ্যকে এগিয়ে না নিলে দেশও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ মন কি বাত কার্যক্রমে দেশের বিভিন্ন বিষয় আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। তিনি কিন্তু নিজের মন কি বাত বলেন না। তিনি সারা ভারতবর্ষের মানুষের মনের কথা এই আধ ঘন্টার মধ্যে তুলে ধরেন। এতে আমরা অনুপ্রাণিত হই।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আলোচনায় বলেন, প্রত্যেক বুথে প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল এবং শুধুমাত্র বুথে নয়, মানুষ নিজেদের বাড়িতেও এই কার্যক্রম দেখেছিল। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে তিনি সমগ্র জাতির সাথে সংযোগ স্থাপন করেন। আজ একটি বিষয় প্রত্যক্ষ হয়েছে যেখানে আজকের এই পর্ব খুবই মর্মস্পর্শী ছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদি একটি অল্পবয়সী মেয়ের গল্প শেয়ার করেছেন যে প্রয়াত হয়েছে। একটা ছোট বাচ্চা, নাম এলিয়েন শেরিন আব্রাহিম, যে আজ এই পৃথিবীতে নেই। কিন্তু তার মা বাবা সিদ্ধান্ত নিলেন যে তাদের মেয়ের অঙ্গ দান করবেন। আর আমরা জানি শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দান করা যায়। আমাদের ত্রিপুরাতেও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট হচ্ছে। ৫টার মতো কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয়েছে। যা আমরা কোনদিন ভাবিনি যে ত্রিপুরায় এটা করা যাবে। আর এই প্রক্রিয়ায় যারা কিডনি দান করেছেন তারাও ভালো আছেন এবং যারা নিয়েছেন তারাও ভালো আছেন। আমরা এখন হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট এর কথা ভাবছি। আগামীদিনে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট এর কথা ভাবা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে যে মানব শরীরের বিভিন্ন অংশ দান করা যায়। এই ছোট্ট বাচ্চাটির কথা আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেছেন। আমরা সবাই যাতে এখান থেকে অনুপ্রাণিত হই তারজন্য এবিষয়টি উত্থাপন করেছেন তিনি। এটা একটা মানবিকতা বোধ।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মনের জোর থাকলে মানুষ কি না করতে পারে। ইচ্ছা শক্তি হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। এমন অসংখ্য ব্যক্তি আছেন যারা একটি পা বা একটি হাত হারানো সত্ত্বেও, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানিয়ে নিয়েছেন এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব পৃথিবীর সামনে তুলে ধরেছেন। প্যারা অলিম্পিকে এমন অনেক ব্যক্তি নিজেদের সেরাটা তুলে ধরেছেন এবং ত্রিপুরা সহ ভারতের অনেক ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করেছেন ও পুরষ্কার জিতেছেন। আমাদের সরকারও তাদের সম্ভাব্য সহায়তা করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। আজ রাজ গোপাল আচারিয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। যার কথা আগে কেউ সামনে নিয়ে আসেন নি। দেশের এমন অনেক মহান ব্যক্তি ও দেশপ্রেমিকদের প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।

ডাঃ সাহা আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পুকুর ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপায় সম্পর্কেও জোর দিয়েছেন। মন কি বাতের মাধ্যমে তিনি সমগ্র জাতিকে অনুপ্রাণিত করেন এবং আমরাও তার বার্তাগুলি থেকে অনুপ্রেরণা পেতে পারি।

——–

Leave a Reply