বেঙ্গল এসআইআর: সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে বিচারিক যাচাই, প্রতিটি জেলায় তিন সদস্যের তদারকি কমিটি

কলকাতা, ২২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত দাবি ও আপত্তির পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নিষ্পত্তি সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথম দফায় ১৫০ জন সেশনস জজকে নিয়োগ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।

মোট ২৫০ জন বিচারিক আধিকারিককে এই ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়েছে। জেলা স্তরে গোটা প্রক্রিয়ার তদারকির জন্য হাইকোর্টের নির্দেশে প্রতিটি জেলায় তিন সদস্যের একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটিতে থাকবেন এক জন জেলা বিচারক, জেলা শাসক (যিনি একই সঙ্গে জেলা নির্বাচন আধিকারিক) এবং সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার।

প্রথম পর্যায়ে সোমবার থেকে ১৫০ জন সেশনস জজ কাজ শুরু করবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী বাকি বিচারিক আধিকারিকদের ধাপে ধাপে যুক্ত করা হবে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) দফতরের এক সূত্র জানিয়েছে, “যেসব নথি ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং বিচারিক যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে, সেগুলির সত্যতা যাচাই ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করাই মূল লক্ষ্য।”

এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে যেসব নথি বিচারিক নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়েছে, সেগুলি আপাতত বাদ থাকবে। পরবর্তীতে সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হবে।

রবিবার উত্তর কলকাতার যশপ ভবনে বিচারক ও নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে। সেখানে শুনানির রূপরেখা, নথি যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তির বিষয়গুলি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বৈঠক দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে জানা গেছে।

রবিবার রাতের মধ্যেই এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিচারিক আধিকারিকদের ব্রিফিং ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হবে, যাতে সোমবার থেকেই পূর্ণাঙ্গ বিচারিক যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।

সূত্রের খবর, প্রায় ৪৫ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ ভোটারের নথি বিচারিক যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে। এগুলি সকলই ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ হিসেবে চিহ্নিত, যার মধ্যে ‘প্রজেনি ম্যাপিং’-এর সময় ধরা পড়া অস্বাভাবিক পারিবারিক তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Leave a Reply