ওয়াশিংটন, ২১ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তাঁর গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাতিল করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতের রায়কে “অত্যন্ত হতাশাজনক” বলে মন্তব্য করে তিনি অবিলম্বে নতুন আইনি ধারায় পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন, যার মধ্যে রয়েছে একটি নতুন “১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক” আরোপ।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, শুল্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় অত্যন্ত হতাশাজনক। দেশের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস না দেখানোয় আদালতের কিছু সদস্যের জন্য আমি লজ্জিত। তিনি ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো এবং ব্রেট কাভানফ-কে ধন্যবাদ জানান।
ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় তাঁর শুল্ক কর্মসূচির ইতি টানেনি। বরং বিকল্প আইনি উপায় ব্যবহারের পথ আরও পরিষ্কার হয়েছে। তাঁর দাবি, এই খারাপ সিদ্ধান্তে পুরো আদালত স্বীকার করেছে যে আমার কাছে আরও শক্তিশালী আইন, পদ্ধতি ও ক্ষমতা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আদালত শুল্ককে সম্পূর্ণ বাতিল করেনি, বরং নির্দিষ্টভাবে আইইইপিএ আইনের আওতায় আরোপিত শুল্ক ব্যবহারের প্রশ্ন তুলেছে। আমি আইইইপিএ-র আওতায় যা খুশি করতে পারি, শুধু নির্দিষ্ট ফি আরোপ করতে পারি না, মন্তব্য ট্রাম্পের।
প্রেসিডেন্ট জানান, বিদ্যমান শুল্ক বহাল থাকবে এবং নতুন শুল্ক দ্রুত কার্যকর হবে। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতে সেকশন ২৩২ এবং বিদ্যমান সেকশন ৩০১ শুল্ক সম্পূর্ণ বলবৎ থাকবে।
একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, আজ আমি সেকশন ১২২-এর অধীনে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশে স্বাক্ষর করব, যা বর্তমান শুল্কের অতিরিক্ত হবে।
ট্রাম্প জানান, অন্য দেশ ও সংস্থার অন্যায্য বাণিজ্যিক অনুশীলন রুখতে প্রশাসন নতুন সেকশন ৩০১ সহ একাধিক তদন্ত শুরু করছে। কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন কি না, সে প্রশ্নে তিনি বলেন, এর জন্য আলাদা করে কিছু করার দরকার নেই, আগেই অনুমোদন রয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, সেকশন ১২২ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সেকশন ৩০১ তদন্ত আইনি দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী।
তবে ইতিমধ্যেই আদায় হওয়া প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার শুল্ক রাজস্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আদালত এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি এবং বিষয়টি আগামী কয়েক বছর আদালতে চলতে পারে।
শুল্ককে নিজের অর্থনৈতিক সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ডাও সূচক ৫০,০০০ অতিক্রম করেছে এবং এসঅ্যান্ডপি ৭,০০০ ছুঁয়েছে। তাঁর দাবি, শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন শিল্পে নতুন প্রাণ ফিরেছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় নিরাপত্তা (সেকশন ২৩২), অন্যায্য বাণিজ্যিক চর্চা (সেকশন ৩০১) এবং জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা (আইইইপিএ) সহ একাধিক আইনের অধীনে শুল্ক আরোপ করা যায়। এসব ক্ষমতার সীমা নিয়ে প্রায়ই আইনি লড়াই হয়, যা শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
দশকের পর দশক ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস ও আদালতের মধ্যে বাণিজ্যনীতি নিয়ে টানাপোড়েন চলেছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টি—উভয় প্রশাসনই বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি, দেশীয় শিল্প রক্ষা এবং বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য পূরণে শুল্ক ও চুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
