রপ্তানি বিধিনিষেধ মোকাবিলায় স্ক্র্যাপ শিল্পে জরুরি সংস্কার প্রয়োজন: শিল্প নেতাগণ

মুম্বই, ২১ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : স্ক্র্যাপকে কৌশলগত পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে শিল্পক্ষেত্রে জরুরি সংস্কার আনার আহ্বান জানালেন শিল্প নেতাগণ। শনিবার পিএইচডি চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (পিএইচডিসিসিআই) ও মেটাল এক্স-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মেলনে তাঁরা বলেন, ওইসিডি দেশগুলি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপের কথা বিবেচনা করায় ভারতের স্ক্র্যাপ আমদানি নির্ভরতা বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সম্মেলনে পিএইচডিসিসিআই-এর মিনারেলস অ্যান্ড মেটাল কমিটির চেয়ার এবং জিন্দাল-এর ডিরেক্টর বিজয় শর্মা স্ক্র্যাপ প্রক্রিয়াকরণ ক্লাস্টারের মাধ্যমে ইকোসিস্টেমকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা, অনানুষ্ঠানিক সংগ্রাহকদের নিয়মিত ভ্যালু চেইনে অন্তর্ভুক্ত করা, প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং ইএসজি ও গ্রিন ফাইন্যান্স কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত সুসংগঠিত অর্থায়নের ওপর জোর দেন।

শর্মা বলেন, স্ক্র্যাপ ব্যবস্থাপনা আর কেবল ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়, এটি এখন প্রতিযোগিতা, স্থায়িত্ব ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতাকে কেন্দ্র করে একটি কৌশলগত ব্যবসায়িক পদ্ধতি। তিনি উল্লেখ করেন, এক টন পুনর্ব্যবহৃত ইস্পাত ১.১ টন লৌহ আকরিক এবং ৬৩০ কেজি কোকিং কয়লা সাশ্রয় করে এবং প্রায় ২৮ শতাংশ নির্গমন কমায়, যা ভারতের প্রবৃদ্ধির জন্য স্ক্র্যাপকে অপরিহার্য করে তুলেছে।

স্কেল বাড়াতে পাঁচটি প্রধান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেন তিনি বিভাজন ও অনানুষ্ঠানিকতা, গুণমান ও মানদণ্ডের অভাব, দামের অস্থিরতা, প্রযুক্তি ও মূলধনের ঘাটতি এবং আস্থার অভাব।

অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল ও এক্সিকিউটিভ হেড আলোক সহায় বলেন, স্বল্পমেয়াদে কার্বন নির্গমন হ্রাসে স্ক্র্যাপ একটি কার্যকর সমাধান। বর্তমানে ভারতে প্রতি টন ইস্পাত উৎপাদনে কার্বন তীব্রতা ২.৫৫ টন CO₂। তিনি বলেন, দেশের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণে ব্লাস্ট ফার্নেস উৎপাদনে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা অর্থনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় হলেও, স্ক্র্যাপ খাত ব্যয় ধীরে ধীরে কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, সারা বিশ্বে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টন ইস্পাত উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে মাত্র ৬০ কোটি টন স্ক্র্যাপ থেকে আসে। হাইড্রোজেন-ভিত্তিক বিকল্প প্রযুক্তি এখনও ব্যয়বহুল এবং ভারতে উচ্চমানের ডিআরআই লৌহ আকরিক সীমিত।

ভারতে স্ক্র্যাপভিত্তিক উৎপাদন বর্তমানে ২২ শতাংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে তা প্রায় ৭০ শতাংশ। সাহায় সতর্ক করে বলেন, ভারতের প্রায় ৮ মিলিয়ন টন স্ক্র্যাপ আমদানি নির্ভরতা ওইসিডি দেশগুলির সম্ভাব্য রপ্তানি বিধিনিষেধের কারণে ঝুঁকির মুখে। ফলে দেশীয় স্ক্র্যাপ শিল্পের বিকাশ এখন সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষার জরুরি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply