নয়াদিল্লি, ২১ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : রাজধানীতে আয়োজিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে গৃহীত হল ‘নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন অন এআই ইমপ্যাক্ট’। ৮৮টি দেশ ও একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এই ঘোষণাপত্রে সমর্থন জানায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘোষণাপত্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক কল্যাণে এআই ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তৃত বৈশ্বিক ঐকমত্যের প্রতিফলন ঘটেছে। “সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়” নীতিকে সামনে রেখে এতে বলা হয়েছে, এআই-এর সুফল মানবসমাজের সকল স্তরে ন্যায্যভাবে ভাগ করে নিতে হবে।
এতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহু-পক্ষীয় অংশগ্রহণ জোরদার করা, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সহজলভ্য ও বিশ্বাসযোগ্য কাঠামোর মাধ্যমে এআই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
ঘোষণাপত্রটি সাতটি মূল স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে গঠিত। এগুলি হল— এআই সম্পদের গণতন্ত্রীকরণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক কল্যাণ, সুরক্ষিত ও বিশ্বাসযোগ্য এআই, বিজ্ঞানের জন্য এআই, সামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য প্রবেশাধিকার, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সহনশীল, দক্ষ ও উদ্ভাবনী এআই ব্যবস্থা।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক রূপান্তরে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ওপেন-সোর্স ও সহজলভ্য এআই পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা, শক্তি-সাশ্রয়ী এআই পরিকাঠামো নির্মাণ, বিজ্ঞান, শাসনব্যবস্থা ও জনপরিষেবা প্রদানে এআই-এর বিস্তৃত প্রয়োগ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, “এআই-এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শক্তিশালী ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং অর্থবহ ও সাশ্রয়ী সংযোগব্যবস্থা অপরিহার্য।”
“বসুধৈব কুটুম্বকম” নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, এআই সম্পদের সাশ্রয়ী ও সমতাভিত্তিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে সব দেশ তাদের নাগরিকদের কল্যাণে এআই উন্নয়ন, গ্রহণ ও প্রয়োগ করতে পারে।
এছাড়াও ‘চার্টার ফর দ্য ডেমোক্র্যাটিক ডিফিউশন অব এআই’-কে একটি স্বেচ্ছাসেবী ও অ-বাধ্যতামূলক কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রাথমিক এআই সম্পদে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, স্থানীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহ এবং জাতীয় আইন মেনে স্থিতিশীল এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, নিরাপদ, বিশ্বাসযোগ্য ও দৃঢ় এআই ব্যবস্থার উন্নয়নই আস্থা তৈরি এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল সর্বাধিক করার ভিত্তি। এআই গবেষণা পরিকাঠামোয় প্রবেশাধিকারের প্রসার এবং কাঠামোগত বাধা দূর করা গেলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উন্নয়নে এআই ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সমাপনী বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এআই ইমপ্যাক্ট সামিট আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহু-পক্ষীয় অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং মানবজাতির সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবী নীতি ও নির্দেশিকা প্রণয়নে সহায়ক হবে।
_____

