কাসৌলি, ২১ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : হিমাচল প্রদেশের কাসৌলিতে সেন্ট্রাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিআরআই)-এ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত টিটেনাস ও প্রাপ্তবয়স্ক ডিফথেরিয়া (টিডি) টিকার উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাড্ডা সিআরআই-এর বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশীয়ভাবে টিডি টিকা উৎপাদন একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার হবে এবং দেশের জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও মজবুত হবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বে স্বাস্থ্য ও ওষুধ ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার স্পষ্ট রূপরেখা গ্রহণ করেছে। দেশীয়ভাবে টিডি টিকার উৎপাদন ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ভাবনার বাস্তব রূপ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উদ্বোধনের পর এই টিকা কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বজনীন টিকাদান কর্মসূচি (ইউআইপি)-এর আওতায় সরবরাহ করা হবে। নাড্ডা জানান, আগামী এপ্রিলের মধ্যে সিআরআই ৫৫ লক্ষ ডোজ ইউআইপি-তে সরবরাহ করবে এবং আগামী বছরগুলিতে উৎপাদন ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাবে।
ভারতকে “বিশ্বের ফার্মেসি” বলে উল্লেখ করে নাড্ডা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিংয়ে ভারত ‘ম্যাচুরিটি লেভেল-৩’ অর্জন করেছে, যা দেশের টিকা নিয়ন্ত্রক কাঠামোর দৃঢ়তা প্রমাণ করে। সিআরআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলির অবদান এতে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে টিকা বা ওষুধ উদ্ভাবনে বহু বছর সময় লাগত—টিটেনাস টিকা তৈরিতে কয়েক দশক, যক্ষ্মার ওষুধে প্রায় ৩০ বছর এবং জাপানি এনসেফালাইটিস টিকায় প্রায় এক শতাব্দী লেগেছে। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভারত মাত্র নয় মাসে দুটি দেশীয় টিকা তৈরি করে ২২০ কোটির বেশি ডোজ প্রয়োগ করেছে।
‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত প্রায় ১০০টি দেশে টিকা সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে ৪৮টি দেশ বিনামূল্যে টিকা পেয়েছে।
নাড্ডা জানান, সিআরআই হল প্রথম সরকারি প্রতিষ্ঠান যা ‘গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসেস’ (জিএমপি) মানদণ্ডে টিকা উৎপাদন করছে। তিনি ইউআইপি-কে বিশ্বের বৃহত্তম টিকাকরণ কর্মসূচি বলে উল্লেখ করেন। বর্তমানে ইউআইপি-র আওতায় ১২টি প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে ১১টি টিকা প্রদান করা হয়।
প্রতি বছর দেশে প্রায় ২ থেকে ২.৫ কোটি শিশু জন্ম নেয় এবং সমসংখ্যক মহিলা গর্ভবতী হন। গর্ভধারণ নিবন্ধনের সময় থেকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ইউ-উইন’-এর মাধ্যমে উপভোক্তাদের ট্র্যাক করা হয়। গর্ভবতী মহিলাদের পাঁচটি প্রসব-পূর্ব পরীক্ষা নিশ্চিত করা হয় এবং শিশুর ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত মোট ২৭টি ডোজ প্রদান করা হয় বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

