ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার চিন্তাভাবনা ট্রাম্পের, রিপোর্ট

ওয়াশিংটন, ২০ ফেব্রুয়ারি: ইরানকে নতুন করে পরমাণু চুক্তিতে বাধ্য করতে সীমিত সামরিক হামলার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনটাই জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানকে আলোচনায় বসতে চাপ বাড়াতে প্রথম ধাপে সীমিত আকারে সামরিক হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন ট্রাম্প। এর লক্ষ্য পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়িয়ে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

সূত্রের দাবি, প্রাথমিক হামলা হলে তা ইরানের কয়েকটি সামরিক বা সরকারি স্থাপনায় লক্ষ্য করে চালানো হতে পারে। ইরান যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ না করে, তবে হামলার পরিধি বাড়িয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানা হতে পারে।

এক সূত্রের বক্তব্য, ছোট আকারে হামলা শুরু করে প্রয়োজনে তা ধাপে ধাপে বাড়ানো হতে পারে, যতক্ষণ না ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি ভেঙে দেয় বা সরকার নতি স্বীকার করে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, আমরা একটা চুক্তি করব, বা অন্য কোনওভাবে সেটা আদায় করব। তিনি আরও জানান, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হতে পারে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট কী করবেন বা করবেন না, তা একমাত্র তিনিই জানেন।”

এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বাড়ানো হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল আর ফোর্ড ও তার সহযোগী যুদ্ধজাহাজগুলি ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ বাহিনী সম্পূর্ণ মোতায়েন হতে পারে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলে প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল বি শাপিরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একত্রে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক দিক থেকে বড় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, সংঘাত শুরু হলে তা দ্রুত বা মসৃণভাবে শেষ নাও হতে পারে এবং ইরানও পাল্টা ক্ষতি করার সক্ষমতা রাখে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনে মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং মার্কিন সেনাকে এমন আঘাত হানা হবে, যেখান থেকে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান দাবি করে, তারা পরমাণু অস্ত্র চায় না এবং বেসামরিক কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তাদের রয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনা চললেও উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে, ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Reply