‘মানব’ ভিশন ফর এআই: মানবকেন্দ্রিক ও স্বচ্ছ বৈশ্বিক কাঠামোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী মোদীর

নয়াদিল্লি, ১৯ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ভবিষ্যৎ গড়তে উদ্ভাবন ও দায়িত্ববোধের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ‘মানব’ নামে মানবকেন্দ্রিক একটি রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এআই যুগে বিশ্বের সামনে যেমন বড় স্বপ্ন রয়েছে, তেমনই বড় দায়িত্বও রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্ন এআই ভবিষ্যতে কী করতে পারবে তা নয়, বরং আমরা বর্তমানে এআইকে কীভাবে ব্যবহার করছি সেটাই আসল বিষয়। পারমাণবিক শক্তির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রযুক্তি সঠিক পথে পরিচালিত হলে কল্যাণ বয়ে আনে, আর দিশাহীন হলে ধ্বংস ডেকে আনে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রস্তাবিত ‘মানব’ ভিশনের ব্যাখ্যা করে জানান, এটি ২১শ শতাব্দীর জন্য ভারতের মানবকেন্দ্রিক এআই দৃষ্টিভঙ্গি। এখানে ‘এম’ মানে নৈতিক ও মানবমূল্যভিত্তিক ব্যবস্থা, ‘এ’ মানে জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা যেখানে ডেটার মালিকানার অধিকার নিশ্চিত হবে, ‘এন’ মানে সবার জন্য সহজপ্রাপ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই, ‘এ’ মানে আইনসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রযুক্তি এবং ‘ভি’ মানে মানবকল্যাণকেই চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে ধরা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ যন্ত্র নয়, মানবিক মূল্যবোধই নির্ধারণ করবে।

স্বচ্ছতার উপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, এআই গোপনে নয়, উন্মুক্ত ও যৌথ উদ্ভাবনের মাধ্যমে এগোলে তবেই তা বৈশ্বিক কল্যাণে কাজ করবে। ডিপফেক ও ভুয়ো ডিজিটাল কনটেন্টের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেমন খাদ্যে পুষ্টি-লেবেল থাকে, তেমনই ডিজিটাল কনটেন্টেও সত্যতা-লেবেল থাকা উচিত, যাতে মানুষ বুঝতে পারে কোনটি বাস্তব আর কোনটি এআই-নির্মিত। শিশু সুরক্ষার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ এআই-এ ভয় দেখেন, কিন্তু ভারত এআই-এ সুযোগ ও ভবিষ্যৎ দেখে। তিনি জানান, এই সামিটে তিনটি ভারতীয় সংস্থা তাদের নিজস্ব এআই মডেল ও অ্যাপ চালু করেছে, যা দেশের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তির প্রতিফলন।

Leave a Reply