দেহরাদুন, ১৬ ফেব্রুয়ারি : ত্রিপুরার ছাত্র এঞ্জেল চাকমা হত্যা মামলায় পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে ৬৪৯ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে উত্তরাখন্ড পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন নাবালকও রয়েছে। পলাতক মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল–এর সহায়তায় শিগগিরই রেড কর্নার নোটিস জারির প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে তদন্তের স্বার্থে মূল অভিযুক্তের সন্ধান পেতে ব্লু কর্নার নোটিস জারি করা হয়েছিল। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে অভিযুক্ত পালিয়ে প্রতিবেশী দেশ নেপালে আশ্রয় নিয়েছে।
২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দেরাদুনের সেলাকুই এলাকায় একটি মদের দোকানের সামনে ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে কয়েকজন মিলে এঞ্জেল ও তাঁর ভাই মাইকেলকে জাতিগতভাবে অপমান করে এবং গালিগালাজ দেয়। এঞ্জেল তাদের শান্তভাবে উত্তর দেন, কিন্তু সেই উত্তরের পরই পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁদের উপর হামলা হয়।
এঞ্জেলের বন্ধুদের মতে, এঞ্জেল ছিল খুব শান্ত প্রকৃতির। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে তিনি নিজের পরিচয় নিয়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু সংঘবদ্ধ হামলায় এঞ্জেল গুরুতর আহত হন এবং মাইকেলও আঘাত পান। অঞ্জেলের ভাই মাইকেল তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। দেহরাদূনের একটি হাসপাতালে ১৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মারা যান।
পুলিশ জানিয়েছে, ১২ ডিসেম্বর মাইকেল চাকমার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজন নাবালক। প্রধান অভিযুক্ত যজ্ঞ রাজ সম্ভবত নেপালে পালিয়ে গেছে, তাকে ধরার জন্য দুইটি পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে এবং ২৫,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশ প্রথমে এঞ্জেল চাকমার ওপর হামলার ঘটনায় ১১৫(২) (ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা), ১১৮ (মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা) এবং ৩৫১(৩) (অপরাধী হুমকি প্রদান) ধারায় মামলা দায়ের করেছিল। তবে আঞ্জেলের মৃত্যুর পর মামলার অভিযোগে পরিবর্তন আনা হয় এবং ১০৩(১) (হত্যা) ও ৩(৫) (একত্রে অপরাধ ঘটানো) ধারাও যুক্ত করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ মোট ছয়জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে প্রধান হামলাকারী যজ্ঞ রাজ এখনও পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বাড়ি নেপালে এবং সে সেখানেই পালিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক অভিযান চালানো হলেও অভিযুক্তের খোঁজ মেলেনি। বিকাশনগরের সিও ভাস্কর লাল জানান, ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে তা নেপাল দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং খুব শিগগিরই তাঁর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করা হবে।

