নয়াদিল্লি, ১৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): দিল্লি পুলিশ সোমবার তাদের ৭৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদ্যাপন করল। রাজধানীর নিরাপত্তা রক্ষায় দীর্ঘদিনের সেবাকে স্মরণ করে এদিন দিল্লি পুলিশ সদর দফতরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
অনুষ্ঠানে দিল্লি পুলিশের বিভিন্ন বিশেষ ইউনিটের চমকপ্রদ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এসডব্লিউএটি দল, ব্যান্ড ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, মোটরসাইকেল রাইডার, পিসিআর ইউনিটসহ একাধিক বিশেষ শাখা শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের নজির তুলে ধরে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠানে পুলিশ কর্মীদের হাতে সম্মানসূচক পদক তুলে দেন এবং জননিরাপত্তায় তাঁদের নিষ্ঠা ও অবদানের প্রশংসা করেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “দিল্লি পুলিশের দায়িত্ব, কর্মদক্ষতা ও নিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লি শুধু একটি শহর নয়, এটি দেশের গণতন্ত্রের হৃদস্পন্দন। তাই রাজধানীর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ মানের হওয়া প্রয়োজন।”
তিনি জানান, বিশেষ সেলের জন্য প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সমন্বিত সদর দফতরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, যা মাদক পাচার ও সন্ত্রাস দমনে দেশের অন্যতম আধুনিক কেন্দ্র হবে। এছাড়া আরও ১০টি নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৮৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড, কন্ট্রোল, কমিউনিকেশন অ্যান্ড কম্পিউটার সেন্টার (সি৪আই) ‘সেফ সিটি’ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে চালু করা হয়েছে। এর সঙ্গে ১১টি জেলা পর্যায়ের সি৩আই কেন্দ্র ও ৭৫টি থানা পর্যায়ের সি২আই ইউনিট যুক্ত হবে।
দিল্লিতে ১০ হাজার ক্যামেরা সংযোগের পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইতিমধ্যেই ২,১০০টি ক্যামেরা সচল হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেশের সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শাহ বলেন, “২০১৪ থেকে ২০২৬ সময়কাল ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ইতিহাসে স্বর্ণ অধ্যায় হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের আগে কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অস্থিরতা এবং ১১টি রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা মাওবাদী হিংসা—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
তিনি দাবি করেন, অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলুপ্তির পর কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব এবং মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় হিংসার ঘটনা প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে। “২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে সম্পূর্ণ মাওবাদমুক্ত করতে আমরা সফল হব,” বলেন তিনি।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১০ হাজারেরও বেশি যুবক মূল স্রোতে ফিরে এসেছে এবং ২০টির বেশি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে স্থায়ী শান্তির পথে অগ্রগতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
নতুন ফৌজদারি আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে প্রণীত তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন ও নতুন ন্যায় সংহিতা দেশের বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। “এই আইনগুলির লক্ষ্য শাস্তি নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা,” বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লি পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “সংসদে হামলা হোক বা লালকেল্লার সামনে সাম্প্রতিক ঘটনা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দিল্লি পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।”
উল্লেখ্য, ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে দিল্লি পুলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এর নামকরণ করা হয় ‘দিল্লি পুলিশ’।

