এনডিপিএস-সংযুক্ত মানি লন্ডারিং মামলা: ৫.৮৮ কোটি টাকার সম্পত্তি সংযুক্ত করল ইডি

মুম্বই, ১৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): এনডিপিএস-সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং মামলায় প্রায় ৫.৮৮ কোটি টাকার সাতটি অস্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত (অ্যাটাচ) করল ইডি-র মুম্বই জোনাল দফতর। সংযুক্ত সম্পত্তির মধ্যে মুম্বইয়ের একাধিক ফ্ল্যাটও রয়েছে বলে সোমবার এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর অধীনে যাঁদের সম্পত্তি সংযুক্ত করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সাল শেখ, আলফিয়া শেখ প্রমুখ।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি), মুম্বইয়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগে এনডিপিএস আইনের বিভিন্ন ধারার উল্লেখ ছিল। তদন্তে উঠে আসে, প্রধান অভিযুক্তদের অন্যতম ফয়সাল শেখ কুখ্যাত মাদক কারবারি সলিম দোলার কাছ থেকে নিষিদ্ধ মাদক ‘মেফেড্রোন’ (এমডি) সংগ্রহ করতেন।

ইডির দাবি, ফয়সাল শেখ ও তাঁর স্ত্রী আলফিয়া শেখ মেফেড্রোন বিক্রির একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। তাঁরা সামিয়া খান, নাসির ইয়াসিন খান, আজিম আবু সলিম খান ওরফে আজিম ভাউ-সহ আরও কয়েকজনের কাছে মাদক সরবরাহ করতেন। ওই ব্যক্তিরা পরে খুচরো ক্রেতাদের কাছে তা বিক্রি করতেন।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বেআইনি মাদক ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত নগদ অর্থ ফয়সাল ও আলফিয়া তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করতেন, যাতে তা বৈধ আয়ের রূপ দেওয়া যায়। নিজেদের ও সহযোগীদের নামে খোলা একাধিক সংস্থার মাধ্যমেও অপরাধলব্ধ অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও ওই সংস্থাগুলির কোনও প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যকলাপ ছিল না।

ইডির দাবি, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফৈজান মোহাম্মদ শফি শেখের হাতে তুলে দেওয়া হত। তাঁর মালিকানাধীন সংস্থা এম/এস ফাইজ ইমপেক্স, মুম্বইয়ের মাধ্যমে এবং অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও শেল কোম্পানির অ্যাকাউন্ট ঘুরিয়ে অর্থ লেনদেন করা হত, যাতে টাকার উৎস গোপন রাখা যায়।

অভিযোগ, এইভাবে ‘লন্ডার’ করা অর্থের একাংশ মূল অভিযুক্ত ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হত এবং পরে তা দিয়ে অস্থাবর সম্পত্তি কেনা হয়।

গত বছরের ৮ অক্টোবর পিএমএলএ-র অধীনে ইডি তল্লাশি অভিযান চালায়। সেই সময় ৪২ লক্ষ টাকা নগদ, প্রায় ১.৬ কেজি সোনার গয়না (মূল্য আনুমানিক ১.৭৬ কোটি টাকা), প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকার তিনটি ব্যবহৃত বিলাসবহুল গাড়ি এবং অভিযুক্তদের ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত বা স্থগিত করা হয়।

ইডি জানিয়েছে, ফয়সাল ও আলফিয়া শেখের গড়ে তোলা অর্থপাচারের নেটওয়ার্কের অর্থপ্রবাহ একটি ফ্লো-চার্টের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।
____

Leave a Reply