ওয়াশিংটন, ১৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): সাম্প্রতিক বাংলাদেশের নির্বাচনী ফলাফল তুলে ধরে এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলন রাস্তায় সাফল্য পেলেও তা ব্যালট বাক্স বা নীতিনির্ধারণে প্রত্যাশিত রাজনৈতিক সাফল্যে রূপ নিতে পারেনি।
আমেরিকার থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বৈদেশিক সম্পর্ক কাউন্সিল (সিএফআর)-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো জোশুয়া কুরলান্টজিক উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের অগস্টে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র পতন ঘটানো বাংলাদেশি বিক্ষোভ এশিয়ায় জেন-জি আন্দোলনের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল। এই আন্দোলন নেপাল, ইন্দোনেশিয়া-সহ অন্যান্য দেশেও তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। এমনকি আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল পর্যন্ত এর প্রভাব পৌঁছয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে কার্লান্টজিকের মতে, “জেন-জি আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লেও তা নির্বাচনে জয় বা নীতিগত পরিবর্তনে রূপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, থাইল্যান্ডে জেন-জি সমর্থিত পিপলস পার্টি জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবি করেছে এবং জাপানে নতুন প্রজন্মকেন্দ্রিক দলগুলির চ্যালেঞ্জ সামলে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বড় জয় পেয়েছে।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারালেও নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)—দীর্ঘদিনের দ্বৈত রাজনৈতিক প্রাধান্যের অপর অর্ধাংশ। যদিও দলটি গণতন্ত্র রক্ষা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবুও বহু বাংলাদেশি এখনও তাদের সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করতে পারছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ।
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের গড়া জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে—যা কার্লান্টজিকের ভাষায় “অত্যন্ত দুর্বল ফলাফল”।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিএনপি-কে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের ভোটাররা সংবিধান সংস্কার, গণতন্ত্রের সুরক্ষা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সুযোগের বিস্তার এবং দুর্নীতি রোধের পক্ষে মত দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন, সংসদে প্রাধান্য পেতে চলা বিএনপি আদৌ এই সংস্কারগুলি বাস্তবায়ন করবে কি না।
কার্লান্টজিকের মতে, বিএনপির পদক্ষেপই প্রমাণ করবে দলটি আদৌ পরিবর্তিত হয়েছে কি না। যদি তারা সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে বাংলাদেশের রাজনীতি আগের সমস্যার মধ্যেই আটকে থাকবে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইসলামপন্থী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যারা নির্বাচনের আগে ভাবমূর্তি পাল্টানোর চেষ্টা করেছিল। অতীতে রাজনৈতিক হিংসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই দলের বিরুদ্ধে। যদিও ভোটের দিন নির্বাচন ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু, তবে ভোটের আগে একাধিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও হিংসার ঘটনাও ঘটেছে—যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন নয় বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

