গান্ধীনগর, ১৫ ফেব্রুয়ারি : কৃষক স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্র সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ— এই দাবি করে কংগ্রেসের অভিযোগ খারিজ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার গান্ধীনগরে দেশের প্রথম সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি ভিত্তিক পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিগুলিতে কৃষি, দুগ্ধ ও মৎস্য ক্ষেত্রের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস এবং তার নেতা রাহুল গান্ধী কৃষকদের বিভ্রান্ত করছেন। তাঁর কথায়, “সংসদে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধীর কৃষক সুরক্ষার কথা বলা হাস্যকর। কংগ্রেসের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে দেশকে বিভ্রান্ত করার, আর এখন তারা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মিথ্যা প্রচার করছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে প্রতিটি চুক্তিতে কৃষক, পশুপালক ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেছেন। “প্রত্যেকটি চুক্তিতে আপনাদের স্বার্থের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে,” দাবি শাহের।
কৃষিক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর আমলে কৃষি বাজেট ছিল ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে ১ লক্ষ ২৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি, গত এক দশকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে খাদ্যশস্য ক্রয় পূর্ববর্তী ইউপিএ সরকারের তুলনায় পনেরো গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কৃষকদের আর্থিক সহায়তার প্রসঙ্গে শাহ বলেন, “৭০ বছর ধরে কংগ্রেস ঋণ মকুবের কথা বলেছে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই করেনি। এখন কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৬ হাজার টাকা পাঠানো হচ্ছে, যাতে তাঁদের ঋণ নিতে না হয়।”
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে দেশের দুগ্ধশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে— এমন আশঙ্কারও জবাব দেন তিনি। শাহের দাবি, “সমস্ত চুক্তিতেই দুগ্ধ ক্ষেত্রকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সরকার এই খাতকে দুর্বল নয়, আরও শক্তিশালী করেছে।”
এ প্রসঙ্গে তিনি রাহুল গান্ধীকে প্রকাশ্য বিতর্কের চ্যালেঞ্জও জানান। তাঁর কথায়, যে কোনও মঞ্চ বেছে নেওয়া যেতে পারে এবং বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতিও আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথোপকথনের পর আমেরিকার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করা হয়। গত মাসেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন করে চুক্তির কথা জানায়।

