নয়াদিল্লি, ১৫ ফেব্রুয়ারি : ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রবিবার তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির নামে দেশের কৃষকদের সঙ্গে “বিশ্বাসঘাতকতা” করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র কাছে পাঁচটি “সহজ” প্রশ্নের সরাসরি জবাব চান।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কংগ্রেস সাংসদ চুক্তি সংক্রান্ত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন, যা শুধু সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণই নয়, স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দাবি করে বলে তাঁর মত।
রাহুলের অভিযোগ, এই চুক্তির ফলে জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ফসল, বিশেষত সয়া চাষি এবং দুগ্ধ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাঁর প্রশ্ন, “ডিডিজি আমদানি বলতে আসলে কী বোঝানো হচ্ছে? এর মানে কি আমেরিকার জিএম ভুট্টা থেকে তৈরি ডিস্টিলার্স গ্রেন ভারতীয় গবাদিপশুকে খাওয়ানো হবে? তাহলে কি আমাদের দুগ্ধ শৃঙ্খল কার্যত মার্কিন কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে না?”
দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রশ্নে তিনি সয়া তেল ও ডাল আমদানির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। “যদি জিএম সয়া তেল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান-সহ দেশের সয়া চাষিরা কীভাবে আর একটি মূল্য-আঘাত সামলাবেন?”— প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাহুল আরও জানতে চান, “অতিরিক্ত পণ্য বলতে কী বোঝানো হচ্ছে? ভবিষ্যতে কি ডাল ও অন্যান্য সংবেদনশীল ফসলকেও ধীরে ধীরে মার্কিন আমদানির জন্য খুলে দেওয়ার চাপ তৈরি হবে?”
এছাড়া ‘নন-ট্রেড ব্যারিয়ার’ বা অ-বাণিজ্যিক বাধা অপসারণের অর্থ কী, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভারতকে কি জিএম ফসল নিয়ে নিজের অবস্থান নরম করতে বাধ্য করা হবে? ভবিষ্যতে কি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ও বোনাস ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়বে?”
কৃষকদের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে রাহুল বলেন, “একবার এই দরজা খুলে গেলে প্রতি বছর তা আরও বড় হবে না, তার নিশ্চয়তা কী? প্রতিটি আলোচনায় কি নতুন নতুন ফসলকে চুক্তির আওতায় আনা হবে?”
মোদী সরকার মার্কিন চাপে নতি স্বীকার করেছে— এই অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, “এটি শুধু আজকের বিষয় নয়। প্রশ্ন হল, আমরা কি অন্য একটি দেশকে ভারতের কৃষি ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দিচ্ছি?”

