আগরতলা, ১৪ ফেব্রুয়ারি: ককবরক ভাষায় রোমান হরফ বা ইংরেজি লিপি ব্যবহারের দাবিকে পুনরায় নাকচ করল রাজ্য সরকার। শনিবার এ বিষয়ে নিজের আগের অবস্থানেই অনড় থাকার কথা স্পষ্ট করে জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা।
শনিবার তিপ্রা মথা পার্টি সমর্থিত এক ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে রাজধানী আগরতলাসহ রাজ্যের দশটি স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। তাদের মূল দাবি ছিল, ককবরক ভাষায় রোমান হরফ ব্যবহারের স্বীকৃতি প্রদান। এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চাকমা সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব লিপি তৈরি করেছে। ককবরক ভাষার ক্ষেত্রেও যদি আলাদা বা দেশীয় কোনও লিপি গ্রহণ করা হয়, সে বিষয়ে সরকারের আপত্তি নেই। তা বাংলা হোক বা অন্য কোনও ভারতীয় ভাষার লিপি—সরকার বিবেচনা করতে প্রস্তুত। তবে ইংরেজি একটি বিদেশি ভাষা, এবং ককবরক ভাষায় রোমান হরফ ব্যবহারের বিষয়টি সরকার মেনে নেবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান। তিনি বলেন, সরকার ইংরেজির বিপক্ষে নয়, তবে ককবরক ভাষায় ইংরেজি ভাষা ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবেনা।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে রোমান হরফে লেখার সুযোগ থাকলেও খুব অল্প সংখ্যক ছাত্রছাত্রী সেই পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিয়েছে। ককবরক ভাষায় রোমান হরফ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সিবিএসই -এর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে সেখান থেকে এখনও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। এই বিষয়টি সিবিএসই-এর আওতাধীন এবং এখানে রাজ্য সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তাদের কাছে কোনো ইস্যু নেই, তাই এই রোমান হরফের ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। রোমান হরফ ইস্যুতে কিছু নেতা ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। সবকিছু বুঝেশুনেই ছাত্রদের আন্দোলনে নামানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিদেশি ভাষার হরফ নিয়ে আন্দোলন না করে বাংলা ককবরক লিপি বা নিজস্ব লিপি তৈরির দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ককবরক ভাষায় রোমান লিপি কোনওভাবেই গ্রহণ করবে না রাজ্য সরকার।

