ত্রিপুরা থেকে ৫০০ মেট্রিক টন আদা, ২০ মেট্রিক টন চিলি অর্ডার দিয়েছে জার্মানি: কৃষি মন্ত্রী

আগরতলা, ১৪ ফেব্রুয়ারী: ত্রিপুরা অর্গানিক পণ্যে জার্মানির ক্রেতাদের আকর্ষণ তৈরি করেছে। সম্প্রতি নুরেমবার্গ, জার্মানিতে অনুষ্ঠিত এক প্রদর্শনীতে ত্রিপুরার অর্গানিক পণ্যের ওপর জার্মান ক্রেতারা এতটাই মুগ্ধ হয়েছেন যে তারা ত্রিপুরা থেকে ৫০০ মেট্রিক টন আদা এবং ২০ মেট্রিক টন বার্ডস আই চিলি অর্ডার দিয়েছেন। এই তথ্য জানিয়েছেন ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ। কৃষি মন্ত্রীর সাথে রাজ্যের জম্পুইজলার কৃষক লক্ষণ রিয়াং ও জার্মানিতে যান।

তিনি জার্মানিতে বায়োফেক ২০২৬ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং ত্রিপুরার অর্গানিক পণ্যের পরিচিতি তুলে ধরেন। মন্ত্রী জানান, জার্মান ক্রেতারা ত্রিপুরার অর্গানিক কৃষি পণ্য দেখে ত্রিপুরা পরিদর্শনে আগ্রহী।

মন্ত্রী আরও বলেন আমি আনন্দিত যে এই প্রদর্শনী আপেডা , বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়, ভারতের সরকার এর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আপেডা ভারতের অর্গানিক খাদ্য রপ্তানির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটির লক্ষ্য ভারতের জৈব খাদ্য রপ্তানির অংশগ্রহণ বর্তমান ২.৫% থেকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ১২% বৃদ্ধি করা।

তিনি উল্লেখ করেন, ত্রিপুরা এই বৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের দিকে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর। এই লক্ষ্য কেবলমাত্র বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি নয়, বরং কৃষিক্ষেত্রে বড় ধরনের রূপান্তরের প্রয়োজনকেও নির্দেশ করছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, ভারত জৈব খাদ্যের বিশ্ব কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। ত্রিপুরার জন্য জৈব চাষ কেবল নতুন উদ্যোগ নয়, এটি একটি জীবনধারা আমাদের ভৌগলিক অবস্থান, বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্য, প্রচুর বৃষ্টি, বনভূমি এবং প্রাচীন কৃষি চর্চার ঐতিহ্য এই জীবনধারাকে রূপ দিয়েছে।”

মন্ত্রী আরও বলেন প্রথম দশকে, ত্রিপুরা এই প্রাকৃতিক সুবিধাকে একটি কাঠামোগত ও বাণিজ্যযোগ্য জৈব আন্দোলনে পরিণত করেছে। বর্তমানে ত্রিপুরায় ৫৩টি জৈব কৃষক উৎপাদক কোম্পানি কার্যকরভাবে কাজ করছে। ২৬,০০০ হেক্টরেরও বেশি জমি জৈব সার্টিফিকেশন প্রাপ্ত, এবং ২৬,৮০০-এরও বেশি কৃষক জৈব সার্টিফিকেশন সিস্টেমের আওতায় নিবন্ধিত।

তিনি জানান ত্রিপুরা এখন বিশ্বের জন্য একটি বৈচিত্র্যময় প্রিমিয়াম জৈব পণ্য সরবরাহ করছে যেমন কালি খাসা, হরি নারায়ণ এবং মায়মি হাঙ্গর সহ সুগন্ধি চাউল, বার্ডস আই চিলি, তিল, হলুদ, আদা, আনারস, কাঁঠাল এবং অন্যান্য আঞ্চলিক কৃষি পণ্য । আমাদের সকল পণ্য কঠোর জৈব মান, ট্রেসেবিলিটি সিস্টেম এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ম মেনে তৈরি, যা বিশ্বমানের গুণগত মান নিশ্চিত করে।

মন্ত্রী বলেন আমাদের দৃষ্টি শুধুমাত্র উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা মূলত মূল্য সংযোজন এবং বাজার সংযোগকে শক্তিশালী করছি, যাতে কৃষক ন্যায্য মূল্য পান এবং বিশ্বব্যাপী ভোক্তারা নৈতিকভাবে উৎপাদিত, জলবায়ু-বান্ধব খাদ্য পেতে পারেন।

শেষে মন্ত্রী আমন্ত্রণ সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন আমরা আমদানিকারী, প্রক্রিয়াকরণকারী, খুচরা বিক্রেতা, গবেষক ও বিনিয়োগকারীদের ত্রিপুরার সঙ্গে জৈব উৎস, ভ্যালু চেইন উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের জন্য যুক্ত হতে অনুরোধ করছি।

Leave a Reply