ওড়িশার বিশেষ শ্রেণির মর্যাদা : বিজেপির ওপর তীব্র আক্রমণ বাড়ালো বিজেডি

ভুবনেশ্বর, ১৪ ফেব্রুয়ারি(আইএএনএস) : ওড়িশার জন্য বিশেষ শ্রেণির মর্যাদার প্রতিশ্রুতিতে দশবছরের অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে বিরোধী বিজু জনতা দল শনিবার বিজেপি সরকারের উপর তীব্র আক্রমণ চালিয়েছে।

বিজেডি সাংসদ সস্মিত পাত্র সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ২০১৪ সালে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ওড়িশার সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশেষ শ্রেণির মর্যাদা প্রদানের চেষ্টা করবে। সরকারে আসার দুই বছর পেরিয়ে গেছে, তবুও তারা এক ইঞ্চি অগ্রগতি করেনি।

পাত্র উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সংসদীয় প্রকাশনায় দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই বিষয়ে কোনো প্রস্তাবনা নেই। তিনি বলেন, এটি ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের দাবির বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করছে। যারা বলেছিল ক্ষমতায় এলে ওড়িশার জন্য বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করবে, সেই দাবিতে বড় প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।

তিনি মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি নেতৃত্বাধীন সরকারকে অনুরোধ করেন, রাজ্যের মানুষের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ মর্যাদা প্রার্থনার জন্য কেবিনেট রেজুলেশন গ্রহণ করা হোক।

পাত্র বলেন, বিশেষ মর্যাদার দাবি কেবল রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ওড়িশার কাঠামোগত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে প্রতিফলিত করে এবং তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

বিজেপি ১২ জুন ২০২৪-এ ওড়িশায় ক্ষমতায় আসে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক নেতৃত্বাধীন ২৪ বছরের বিজেডি শাসনের অবসান ঘটে। জুন ৪-এ অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ১৪৭ সদস্যের বিধানসভায় বিজেপি ৭৮ আসন পায়, পরে দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থন যোগ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়ায়।

পাত্র বলেন, সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচকও ওড়িশার বিশেষ মর্যাদা দাবিকে সমর্থন করে। নীতি আয়োগের বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক জরিপ ২০২৪-২৫ অনুযায়ী দারিদ্র্য হার ১৫.৬৮ শতাংশ। যদিও উন্নতি হয়েছে, তবুও পুষ্টির ঘাটতি, পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি সীমিত প্রবেশাধিকার এবং স্বাস্থ্য-স্যানিটেশন ব্যবস্থার ফাঁক উন্নয়নকে প্রভাবিত করছে।

রাজ্যের জনসংখ্যার ২২.৮ শতাংশ সংরক্ষিত উপজাতি এবং প্রায় ১৭ শতাংশ সংরক্ষিত জাতি। এছাড়াও, ওড়িশা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিশেষত ঘূর্ণিঝড়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল, যা সরকারি তহবিলের উপর দীর্ঘমেয়াদী চাপ সৃষ্টি করে।

Leave a Reply