যারা বন্দে মাতরমের বিরোধিতা করে, তাদের ভারতে থাকার অধিকার নেই : যোগী আদিত্যনাথ

লখনউ, ১৩ ফেব্রুয়ারি(আইএএনএস) : ‘বন্দে মাতরম’-এর বিরোধিতা করেন যাঁরা, তাঁদের ভারতে থাকার অধিকার নেই। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, যারা বন্দে মাতরমের বিরোধিতা করে, তাদের ভারতীয় মাটিতে থাকার অধিকার নেই। কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ভারতের অন্ন খায়, কিন্তু বন্দে মাতরম গাইতে অস্বীকার করে। তাঁদের জাতীয় অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি অভিযোগ করেন, সমাজবাদী পার্টি নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকার অযোধ্যা ও মথুরার উন্নয়ন আটকে দিয়েছিল এবং কানওয়ার যাত্রা ও দীপোৎসবের মতো ধর্মীয় আয়োজনের বিরোধিতা করেছিল। যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশ এখন এমন এক মডেলের দিকে এগোচ্ছে যেখানে উন্নয়ন ও ঐতিহ্য মিলিয়ে নবজাগরণ ঘটছে। তাঁর কথায়, রাজ্য ‘দাঙ্গা অর্থনীতি’ থেকে ‘মন্দির অর্থনীতি’-তে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রয়াগরাজে মাঘ মেলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগে যেখানে প্রায় ১২ কোটি ভক্ত সমাগম হত, সেখানে এ বছর প্রায় ২১ কোটি তীর্থযাত্রী অংশ নিয়েছেন। তাঁর মতে, উন্নত আইনশৃঙ্খলার প্রতিফলনই এই বাড়তি জনসমাগম।

২০১৭ সালের আগের পরিস্থিতির উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তখন অপরাধীরা সমান্তরাল সরকার চালাত এবং মাফিয়া চক্র অবাধে কাজ করত। “তখন কন্যাসন্তান ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদ ছিলেন না। আজ উত্তরপ্রদেশ অশান্তির নয়, উৎসবের রাজ্য, মন্তব্য করেন তিনি। গত নয় বছরে রাজ্যে অপরাধ থেকে শৃঙ্খলা, কারফিউ থেকে আইনের শাসন, অস্থিরতা থেকে উদ্‌যাপন এবং অবিশ্বাস থেকে আত্মবিশ্বাসে রূপান্তর ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশ আর ‘বিমারু’ রাজ্য নয়; বরং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির পথে এগোচ্ছে এবং প্রবৃদ্ধির অন্যতম ইঞ্জিন হয়ে উঠছে।

আইন প্রয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে যেখানে মাত্র দুই-তিনটি ফরেনসিক ল্যাব ছিল, এখন রাজ্যে ১২টি কার্যকর ফরেনসিক পরীক্ষাগার রয়েছে। লখনউয়ে একটি স্টেট ফরেনসিক ইনস্টিটিউটও গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় সাইবার থানার পাশাপাশি সব থানায় সাইবার ডেস্ক চালু হয়েছে।

এছাড়া ৬০ হাজারের বেশি পুলিশ কর্মী নিয়োগ, পিএসি ইউনিট পুনর্গঠন এবং মহিলা পিএসি ব্যাটালিয়ন গঠনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নীতি আয়োগের তথ্য উল্লেখ করে যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, গত আট বছরে রাজ্যে ছয় কোটির বেশি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছেন। রেশন, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রকল্প অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। শেষে তিনি বলেন, তাঁর সরকার ক্ষমতার লালসায় নয়, সুশাসন, সুস্পষ্ট নীতিনির্ধারণ এবং দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়েই কাজ করছে।

Leave a Reply