পাটনা এমপি-এমএলএ আদালতে সব মামলায় জামিন পেলেন পাপ্পু যাদব

পাটনা, ১৩ ফেব্রুয়ারি(আইএএনএস) : পূর্ণিয়ার স্বতন্ত্র সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদব শুক্রবার পাটনা এমপি-এমএলএ আদালত থেকে বড় স্বস্তি পেলেন। আদালত তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বাকি তিনটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছে। এর ফলে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলাতেই তিনি জামিন পেয়েছেন এবং যে কোনও সময় বেউর জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই তাঁর সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি পাটনার মন্দিরি এলাকার বাসভবন থেকে ৩১ বছর পুরনো একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি গার্ডানিবাগ থানায় দায়ের ছিল। গ্রেফতারের সময় তাঁর সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখালে পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।

গ্রেফতারের পর পাপ্পু যাদবের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে ইন্দিরা গান্ধী ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্স (আইজিআইএমএস)-এ এবং পরে পাটনা মেডিকেল কলেজ এণ্ড হসপিটাল (পিএমসিএইচ)-এ ভর্তি করা হয়। মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতে পরে তাঁকে বেউর জেলে পাঠানো হয়।

১০ ফেব্রুয়ারি ৩১ বছর পুরনো গার্ডানিবাগ মামলায় আদালত তাঁকে জামিন দেয়। এরপর এমপি-এমএলএ আদালতে হাজিরার সময় তাঁকে হুইলচেয়ারে করে আদালতে আসতে দেখা যায়।

এর আগে একটি মামলায় জামিন মিললেও তাঁকে আরও তিনটি মামলায় বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ২০১৬-১৭ সালের কোতওয়ালি থানার মামলা, অন্যটি কোতওয়ালি থানার মামলা নম্বর ১১৩/১৯ এবং তৃতীয়টি বুদ্ধ কলোনি থানায় দায়ের হওয়া মামলা (নম্বর ৭২/২৬), যেখানে গ্রেফতারের পর বিক্ষোভ চলাকালীন সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

পাটনা সিভিল কোর্টে একাধিকবার বোমা হামলার হুমকির জেরে আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং শুনানি পিছিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে আদালতে আনা হলেও এক আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে সেদিনও শুনানি সম্ভব হয়নি। অবশেষে শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, সব পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত বাকি তিনটি মামলায়ও জামিন মঞ্জুর করে। এর ফলে তাঁর জেলমুক্তির আর কোনও আইনি বাধা রইল না। জামিনের খবরে তাঁর সমর্থকেরা একে ‘ন্যায়ের জয়’ বলে অভিহিত করেন এবং বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, পাটনায় নিট পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই পাপ্পু যাদব সরব ছিলেন। তিনি একাধিকবার জেহানাবাদে গিয়ে মৃতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। পাপ্পু যাদব ও তাঁর সমর্থকদের দাবি, নিট পরীক্ষার্থীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হওয়ার কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ৬ জানুয়ারি চিত্রগুপ্ত নগরের শম্ভু গার্লস হোস্টেলে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে ওই নিট পরীক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ১১ জানুয়ারি একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়, যার ফলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে রাজনৈতিক ও জনমত চাপ আরও বাড়ে।

Leave a Reply