পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত নথি পাঁচ বছর সংরক্ষণে নির্দেশ ইসির

কলকাতা, ১৩ ফেব্রুয়ারি(আইএএনএস) : পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় জমা পড়া সমস্ত নথি আগামী পাঁচ বছর সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই নির্দেশ দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল, সিইও দফতরের অন্যান্য আধিকারিক, সমস্ত জেলা শাসক, জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও), ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-রা।

সিইও দফতরের এক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সতর্ক করে দেন যে, ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পাঁচ বছর পরেও যদি চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কোনও বিদেশি নাগরিকের নাম ধরা পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিক ডিইও সহ কমিশনের তরফে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।

সূত্রের দাবি, তিনি আরও জানান যে, কোনও আইএএস আধিকারিকের গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁর বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসি আর)-এ দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে পদোন্নতি বা কর্মজীবনের অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলবে। বৈঠকে বিশেষভাবে ডিইও-দের নির্দেশ দেওয়া হয় যে, খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তি সংক্রান্ত শুনানিতে কমিশন নির্ধারিত ১৩টি নথিকেই বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। নথি যাচাইয়ের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশও দেন সিইসি।

সিইও দফতরের সূত্র আরও জানিয়েছে, ভার্চুয়াল বৈঠকে ইআরও এবং এইআরও-দের দ্বারা অননুমোদিত ও অযোগ্য নথি সিস্টেমে আপলোড করার একাধিক ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের লঙ্ঘন ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সিইও-কে ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়গুলির উপর নজরদারি করার পরামর্শ দিয়েছেন। খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তির শুনানির বর্ধিত সময়সীমা শনিবার শেষ হচ্ছে। শুনানিতে জমা পড়া নথির যাচাইপর্ব চলবে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি।

Leave a Reply