নয়াদিল্লি, ১৩ ফেব্রুয়ারি(আইএএনএস) : লালকেল্লা বিস্ফোরণ মামলার তদন্ত সম্পূর্ণ করতে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-কে অতিরিক্ত ৪৫ দিনের সময় মঞ্জুর করল দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট। শুক্রবার আদালত এই নির্দেশ দেয়। উল্লেখ্য, এই বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন।
সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা ৯০ দিনের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানালেও পাটিয়ালা হাউস কোর্ট আংশিকভাবে সেই আবেদন মঞ্জুর করে এবং বাড়তি ৪৫ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি মামলার সাত অভিযুক্তের বিচারবিভাগীয় হেফাজত ১৩ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
অভিযুক্ত শোয়েবকে আদালতে সরাসরি হাজির করা হয়, অন্য ছয়জন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে অতিরিক্ত সেশনস জজ প্রশান্ত শর্মা এনআইএ-কে অভিযুক্ত ইয়াসির আহমেদ দারের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ১০ দিনের অনুমতি দেন। সহ-অভিযুক্ত ডা. বিলাল নাসির মাল্লার হেফাজতের মেয়াদও বাড়ানো হয়।
এনআইএ-র দাবি অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার বাসিন্দা ইয়াসির আহমেদ দার এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া নবম অভিযুক্ত। তাঁকে নতুন দিল্লিতে বেআইনি কার্যকলাপ (নিবারণ) আইন, ১৯৬৭ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
এনআইএ জানিয়েছে, ১০ নভেম্বর জাতীয় রাজধানীতে সংঘটিত গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্রে দারের সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ মিলেছে। সংস্থার দাবি, তিনি ষড়যন্ত্রে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আত্মঘাতী অভিযানে অংশ নেওয়ার শপথও নেন।
এছাড়া দারের সঙ্গে মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের, বিশেষ করে বিস্ফোরণের মৃত মূল অভিযুক্ত ডা. উমর নবী এবং মুফতি ইরফানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও দাবি করেছে এনআইএ। বারামুলার বাসিন্দা ডা. মাল্লা, যিনি এই মামলার অষ্টম অভিযুক্ত, তাঁকে গত ৯ ডিসেম্বর দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়। সংস্থার অভিযোগ, তিনি জেনেশুনে উমর নবীকে লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে আশ্রয় দেন এবং সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে যুক্ত প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টাও করেন।
এনআইএ জানিয়েছে, এই প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের পেছনের বৃহত্তর ষড়যন্ত্র উন্মোচনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন রাজ্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে মামলার সব যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

